ফুটবলের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার সামনে এবারো দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ। গতকাল মেলবোর্নে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। সব মিলিয়ে তিনবারের মুখোমুখিতে সকারুদের কাছে ১৬ গোল খেল বাংলাদেশ! 

এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দুই রাউন্ডে বাংলাদেশকে যথাক্রমে পার্থে ৫-০ ও ঢাকায় ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারায় সকারুরা। এবার তৃতীয় দেখায় বাংলাদেশের হারের ব্যবধান আরো বড় হলো। 

গতকাল পুরো ম্যাচে কর্তৃত্ব করেছে সকারুরা। তাদের গোলমুখে কোনো আক্রমণই শাণাতে পারেনি লাল-সবুজরা। বিপরীত প্রান্তে ছিল আক্রমণের পর আক্রমণ। ১৪ মিনিটে হ্যারি সাউটার, ২০ মিনিটে ব্র্যান্ডন বোরেল্লো এবং ৩৭ ও ৪০ মিনিটে মিচ ডিউক গোল করলে প্রথমার্ধেই ৪-০-তে লিড নেয় সকারুরা। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ হজম করে আরো তিন গোল। হ্যাটট্রিক করেন জেমিয়েন ম্যাক্লারেন। তিনি ৪৮, ৭০ ও ৮৪ মিনিটে গোল করেন। ৯০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার লুয়ঙ্গোর পেনাল্টি সেভ করেন বাংলাদেশ গোলকিপার মিতুল মারমা। নইলে গোল ব্যবধান আরো বড় হতে পারত। 

ছয়বার বিশ্বকাপ খেলা অস্ট্রেলিয়া ফিফা রÅvংকিংয়ের ২৭ নম্বরে, আর বাংলাদেশ ১৮৩-তে। ম্যাচও তাদের মাঠে। সব মিলিয়ে ম্যাচে তারাই ছিল ফেভারিট। ম্যাচেই তার প্রতিফলন ঘটল। 

শক্তির বিচারে অস্ট্রেলিয়া অনেক অনেক এগিয়ে থাকলেও আরেকটু বেশি লড়াই আশা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তবে তিনি দলের পাশেই থাকলেন। ম্যাচ শেষে কোচ বলেন, ‘এতগুলো গোল। এ পরিস্থিতির পরও আমি মনে করি দলের মানসিকতা ইতিবাচক। আমি মনে করি না, এ ফল আমাদের প্রভাবিত করবে। তবে সত্যি বলতে আমি এতটা পার্থক্য আশা করিনি। আমরা ম্যাচটা আরেকটু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আশা করেছিলাম। পরিস্থিতির বিবেচনায় আশা করেছিলাম আমাদের ফরোয়ার্ডরা অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে ঢুকতে পারবে, সম্ভবত প্রথমার্ধে এক-দুবার গিয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডাররা আমাদের জায়গা দেয়নি। অস্ট্রেলিয়া শারীরিকভাবে এগিয়ে ছিল, শান্ত ছিল; আমি মনে করি, ওরা ম্যাচে পুরোপুরি আধিপত্য করেছে।’

বাছাই পর্বে পরের ম্যাচগুলোয় মেলবোর্নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করেন কাবরেরা। তিনি বলেন, ‘খুবই কঠিন ম্যাচ, খুবই কঠিন দিন, বিশেষ করে ছেলেদের জন্য। আমরা আমাদের মতো করে খেলতে পারিনি। সবদিক থেকেই অস্ট্রেলিয়া আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। যা-ই হোক, ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি। এ ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। দারুণ খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে অভিনন্দন।’ 

গত মাসে বাছাই পর্বে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম রাউন্ডে দুই লেগের খেলায় মালদ্বীপকে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় হারানোর কৃতিত্ব দেখায় হাভিয়ের কাবরেরার দল। মালেতে প্রথম লেগের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের যাত্রা শুভ হলো না। ২১ নভেম্বর ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় লেবাননের মুখোমুখি হবেন জামাল ভূইয়ারা।

দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘আই’ গ্রুপে খেলছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও বাংলাদেশকে খেলতে হবে লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিপক্ষে। তিনটি দলই ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ফিলিস্তিন ৯৭ নম্বরে ও লেবানন ১০১ নম্বরের দল। লাল-সবুজদের সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ।