দেশে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ ফলাফলকে বাস্তবমুখী পণ্য এবং বাজারজাতকরণের পর্যায়ে নিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশের ফলে যেমন ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (এমআইইটি)-২০২৬’ শীর্ষক তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারেরও বেশি উদ্ভাবন উপস্থাপিত হয়েছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাত করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর কার্যকর সমাধান বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় উদ্যোগের অভাব। সরকারি-বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহ করা সম্ভব।

সচিব আরো বলেন, জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরি করে কীভাবে সেগুলোকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাজারজাতকরণের পর্যায়ে নেয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।

উপাচার্য আরো বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষক অংশগ্রহণ করছেন। জমা পড়া ৩৩৫টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ৫৪টি চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ শতাংশ গবেষণাপত্রে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।