‘আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর জনগণ খেলবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। আজ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে এই কথা বলেন তিনি।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির এই সমাবেশ শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সমাবেশে সেলিমা রহমান বলেন, ‘রাজশাহীতে আমাদের শেষ বিভাগীয় সমাবেশ। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে। সেই সমাবেশ থেকেই এই সরকারের পতনে এক দফা আন্দোলন কর্সূচি ঘোষণা দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির গণসমাবেশ দেখে বর্তমান সরকার আতঙ্কিত। আজকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনেক কথা বলছেন। ভয় দেখাচ্ছেন। মানুষের জীবনকে নিরাপত্তাহীন করে খেলা করছেন। এই খেলা বন্ধ করতে হবে। ১০ তারিখের পর জনগণ খেলবে। জনগণ জেগে উঠেছে, সেই খেলায় আপনারা আর জিততে পারবেন না।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা কেনো সমাবেশ করছি। এই সরকারের দুঃশাসন, অত্যাচার, নিপীড়ন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ১১ জন ভাইকে হত্যার প্রতিবাদ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবিতে। এই সমাবেশে দেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা এক কথায় এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে।

এ দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশ থেকে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে। যার চিত্র গত তিন দিনে আমরা রাজশাহীতে দেখছি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাদের আক্রমণ করে দেশ ছাড়া করেছিল। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। আজ এই দেশের সরকার, এই দেশের পুলিশ যারা দিনের ভোট রাতে চুরি করে, তারা সব বন্ধ করে দিয়েছে। তিন দিন আগে থেকে রাজশাহীতে আমাদের শিবির বানিয়ে থাকতে হয়েছে।

টুকু আরো বলেন, ৫০ বছর পরে আজকে আমাদের আবারো গণআন্দোলন করতে হচ্ছে প্রাণের অধিকার, বাঁচার অধিকার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে। আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে জনগণের ভাতের অধিকারের জন্য। পাকিস্তানের লুটারেরা যেমন লুট করে নিয়ে গিয়েছিল, তেমনি বর্তমান সরকারের লুটপাটের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। এই আন্দোলনে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আপনারা যদি আওয়ামী লীগ করেন- সেটা আপনার নাগরিক অধিকার। কিন্তু মনে রাখবেন, লাখো জনতার ট্যাক্সের পয়সায় আপনাদের সংসার চলে। দয়া করে উর্দি খুলে রাস্তায় আসেন, আমাদের সঙ্গে লড়াই করেন। আমার বন্দুক, আমার গুলি, আমার লাঠি, সেটা দিয়ে আমাকে পেটাবেন, আর সেই যুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করতে বলবেন- সেটা হতে পারে না। আমরা জীবনের ভয় পাই না। আমরা ততদিন পর্যন্ত লড়ব, যতদিন এই দেশের মানুষের অধিকার ফিরে না আসে।