কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসার বিরুদ্ধে পাঁচ বছর ধরে ইউপি সদস্যদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ এবং সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়েছে। আরো নানা অভিযোগে ইউনিয়নের নয় সদস্য অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগটির অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগ রংপুুর ও দুর্নীতি দমন কমিশনার রংপুর বিভাগ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফুলবাড়ী বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কোনো সদস্যকে সম্মানী ভাতা দেননি। ইউনিয়নের সব বাড়ির ভ্যাট, ট্রেড লাইসেন্স ফি, হাট-ঘাটের ওপর ৫ শতাংশ কমিশন, বালারহাট বাজারের মহিলা মার্কেটের ভাড়া থেকে ৮০ শতাংশ কমিশন, তহবিল ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ১ শতাংশ কমিশন উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, তিনি ইউনিয়নের মাসিক সভা করেন না। ভিজিডি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করে চলেছেন। তার এসব কাজের প্রতিবাদ করলে তিনি সাধারণ ওয়ার্ড সদস্যসহ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের নানা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ফলে গত ২৭ জুন ইউনিয়নের নয় সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ মে এক নারী সদস্যকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন মুসাব্বের আলী মুসা। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৯ জুন ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের ভুক্তভোগী সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি আমলে নেয়ার পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসব বিষয়ে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।









