করোনা মহামারীর মধ্যে টানা দুই বছর বিদেশীদের হজে যাওয়া বন্ধ রেখেছে সৌদি আরব। গত বছর থেকে সীমিত পরিসরে অনুমতি দেয়া হয় ওমরা পালনের। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় চলতি বছরও হজের জন্য প্রাক-নিবন্ধন এখনো শুরু করেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়। ফলে এ বছরও অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশীদের হজ যাত্রা। যদিও হজ ফ্লাইট পরিচালনার কারণ দেখিয়ে বৈমানিক ও ক্রুসহ দুটি বড় আকারের (ওয়াইড বডি) উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

জানা গেছে, দুটি উড়োজাহাজ লিজ নিতে গত ৩০ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করে বিমান। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নীতিমালা অনুযায়ী বরাবরের মতোই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর জন্য উড়োজাহাজের বয়সের সীমা বেঁধে দেয়া হয় সর্বোচ্চ ২০ বছর। দরপত্রে উড়োজাহাজের জন্য অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে—উড়োজাহাজের আসন সংখ্যা হতে হবে ২৭০ থেকে ৩০০। ২০২২ সালের ২০ আগস্ট উড়োজাহাজের বয়স ২০ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। এসিএমআই (ওয়েট লিজ) অংশীদারসহ উড়োজাহাজ লিজ নেয়া হবে। অর্থাৎ উড়োজাহাজ পরিচালনায় বৈমানিক, কেবিন ক্রু সরবরাহ করতে হবে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানকে।

দরপত্রে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজ দুটি ২০২২ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ৮০ দিনের জন্য ভাড়া নেয়া হবে। সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুন থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। উড়োজাহাজ দুটির ঢাকা থেকে কুয়েত, দোহা, দুবাই ও আবুধাবিতে ননস্টপ ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে। ভাড়ার সময়ে উড়োজাহাজ দুটির বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ডিউ থাকতে পারবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি উড়োজাহাজের কমপক্ষে ৫৫০ ব্লক আওয়ার উড্ডয়নের সক্ষমতা থাকতে হবে। তবে লিজদাতা প্রতিষ্ঠান একই হলে দুটি উড়োজাহাজ মিলে ১ হাজার ১০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন সক্ষমতা থাকতে হবে।

আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ই-মেইল ঠিকানায় দরপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া বিমানের প্রধান কার্যালয়ে রক্ষিত দরপত্র বাক্সেও তা জমা দেয়া যাবে। বিস্তারিত জানার জন্য বিমানের জেনারেল ম্যানেজার (করপোরেট পরিকল্পনা), বিমান প্রধান কার্যালয়, বলাকা ভবনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

উড়োজাহাজ লিজ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, প্রতি বছর হজ মৌসুম এলেই উড়োজাহাজের সংকট তৈরি হয় বিমানে। এ কারণে আগে থেকেই উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কারণ বর্তমানে বিমানের চলমান রুটগুলো বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রীর চাপ বেশি। এ কারণে হজ ফ্লাইট চালাতে গিয়ে কোনো রুটে ফ্লাইট কমাতে চায় না বিমান। অন্যদিকে বিমানে প্রয়োজনের তুলনায় বৈমানিক ও ক্রুর সংখ্যাও কম। তাই উড়োজাহাজ দুটি ওয়েট লিজে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে সৌদি আরবে অভ্যন্তরীণভাবে সীমিত পরিসরে হজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে সে সময় ১ লাখ ৩৭ হাজার হজযাত্রী যাওয়ার কথা থাকলেও কেউ যেতে পারেননি। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে সৌদি আরব সরকার নভেল করোনাভাইরাস বিধিনিষেধের কারণে শুধু তাদের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত লোকজনকে হজ করার সুযোগ দেয়। করোনা সংক্রমণের আগে ২০১৯ সালে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন বাংলাদেশী হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যান।

এদিকে চলতি বছর এখনো হজে যেতে ইচ্ছুকদের নিবন্ধন শুরু হয়নি। হজে গমনেচ্ছুদের সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে শুরু করেনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যদিও কতিপয় অসাধু ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হজে পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।