বাংলাদেশ ও বিশেষ করে ঢাকা শহর আজ যে জনসংখ্যাগত, পরিবেশগত ও নগর বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে সবুজ আবাসনকে আর কোনো প্রচলিত শব্দ বা বিপণন কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সব অংশীজনের জন্য এখন সময় এসেছে সবুজ আবাসনকে বিলাসিতা নয়, বরং একটি অপরিহার্য প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করার।
এখন আমাদের এখানে দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে। জমি কমে যাচ্ছে। সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক। অন্য যেসব শহর এখন উন্নত হচ্ছে, সেখানেও আমরা ঢাকায় যে ভুল করেছি, সেই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আমরা কয়েক মাস ধরেই বুঝতে পারছি, আমাদের জ্বালানি সংকট কোন পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
এ বিষয়গুলো চিন্তা করার পর যখন আমরা সবুজ আবাসনের কাঠামো বা নীতিমালা তৈরি করব, সেটাকে যদি আমরা ব্যয়বহুল ভবন নির্মাণের মডেলে নিয়ে যাই, যদি আমরা মনে করি যে একটি সবুজ ভবন মানেই সেখানে আরো অনেক স্মার্ট যন্ত্র, সেন্সর বা এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত করা এবং সনদ নেয়া, অর্থাৎ ভবনটি তৈরি করা যদি আমাদের প্রচলিত ভবন তৈরির চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে যায় তাহলে কী হবে?
এ ভবনগুলো শেষ পর্যন্ত বিলাসবহুল পণ্য হয়ে যাবে। যারা সবচেয়ে বেশি পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে, যারা জ্বালানি সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে চায়, তারা কখনই সেই আবাসন কিনতে পারবে না। এ ব্যবধানটা কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে চিন্তা করা খুব প্রয়োজন।
আমাদের ওপর দুই দিক থেকে চাপ থাকে। একটি হলো রাজউক বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষ আমাদের যে ধরনের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করেন, সেটা করা। আরেকটি হলো ভবনের মান নিশ্চিত করা। শুধু মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব একটি পক্ষের ওপর ছেড়ে দিলে কাজে বিচ্যুতি হবেই। তাই মান নিশ্চিত করা, নিয়ম মেনে চলা, সনদ দেয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যথাযথ তদারকি খুব প্রয়োজন।
আরেকটি দিক হলো বাজার কী চাচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত আমরা বাজারকে বোঝাতে না পারব যে সে যখন একটি অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনের সবুজ আবাসন কিনছে, তখন এর জন্য যে বেশি দাম দিচ্ছে, তার বিনিময়ে পরবর্তী বছরগুলোতে তার খরচ কমবে—প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল, পানির ব্যবহারসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সে কতটা সাশ্রয় করছে—এটার যদি কোনো পরিমাপ না থাকে, আমরা যদি তাকে সেই চিত্রটা দেখাতে না পারি, তাহলে সে কখনই আগ্রহী হবে না।










