চলতি বছর বগুড়ায় আলু উৎপাদন কমার পূর্বাভাস মিলেছে। সাড়ে ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টন। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১৩ লাখ টন। সে হিসাবে উৎপাদন কমবে এক লাখ টন। এ বছর আলুর ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষীরা।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বৃষ্টিপাত না হলে বগুড়ার বাজারে আগাম জাতের নতুন আলু দেখা যেত। বৃষ্টিপাতের কারণে আগাম চাষ করা ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাজারে আলু আসতে দেরি হচ্ছে।
আলুচাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আলু বীজের সংকট নেই। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। ফলে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়ে গড়ে তা ৮-১২ হাজারে দাঁড়াবে। আগাম বাদ দিয়ে পূর্ণ মেয়াদে ৬০-৭০ দিনে এ আলু তুললে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ৮০ মণ আলু পাওয়া যাবে।
বগুড়ার সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ বন্দর এলাকার আলুচাষী খোকন হোসেন জানান, খোলাবাজারে এখনো প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬-১৮ টাকা কেজি দরে। বাজারে এখনো আলুর দাম কম। নতুন আলু চাষের পর বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে একই দাম থাকলে খুব বেশি আয় করা যাবে না।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন জানান, বগুড়ায় ১৯-২১ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে আগাম চাষের ক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। বৃষ্টির কারণে আগাম আলু উঠতে দেরি হচ্ছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত তিন হাজার হেক্টর আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর আগাম আলু চাষ হয়েছে। এ আলু আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে উঠবে। নতুন আলু দিয়েই নবান্ন অনুষ্ঠান হবে। জেলায় এখনো ৮৪ হাজার টন আলুর মজুদ আছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দুলাল হোসেন জানান, জেলায় এবার ৫৮ হাজার ৬০০ হেক্টর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২২ টন। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে ১২ লাখ টনেরও বেশি আলু উৎপাদন হবে।
বগুড়ার আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় ৫৮ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২২ টন, জয়পুরহাটে ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টরে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩১, পাবনায় ৯৭০ হেক্টরে ১৬ হাজার ৮৭৮ ও সিরাজগঞ্জে ২৯ হাজার ৯০০ হেক্টরে ৪৯ হাজার ৯০৯ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।










