অর্জিত ছুটি নিয়ে কারাগারে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর বরখাস্ত হলেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) রাজশাহীর শাখাপ্রধান আব্দুল মোত্তালিব। গতকাল আইসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন গাজী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর ‘অর্জিত ছুটি নিয়ে কারাগারে আইসিবির ডিজিএম’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বণিক বার্তা।

জানা গেছে, ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আব্দুল মোত্তালিবকে কারাগারে পাঠান জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক। সেদিন থেকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন তিনি। ২৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলে ৩০ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। এরপর আবার নিয়মিত অফিস করতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতেই পারেনি আইসিবি কর্তৃপক্ষ।

সে সময় আইসিবির রাজশাহী শাখায় গিয়ে নিয়মিত অফিস করতে দেখা যায় আব্দুল মোত্তালিবকে। কারাবরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে জানান, এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ নেবে। তবে কারাবরণের বিষয়টি পর্ষদ জানে কিনা তা জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এ কর্মকর্তা।

যে মামলায় এ কর্মকর্তার সাজা হয় তার বাদী জেলার বাগমারার কানোপাড়া সাজুরিয়া এলাকার মত্স্যচাষী আব্দুল বারিক মণ্ডল। পুঠিয়ার তাহেরপুর এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক তিনি। এ প্রতিষ্ঠানের নামে ইকুইটি অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ফান্ড (ইইএফ) থেকে ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করে আইসিবি।

কিন্তু ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ঋণের প্রথম কিস্তির ২৭ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন পুঠিয়ার মঙ্গলপাড়া গোবিন্দপাড়া এলাকার গোলাম মোর্শেদ হক। এ ঘটনায় তাকে সহায়তা করেন আইসিবির ডিজিএম ও রাজশাহীর শাখাপ্রধান আব্দুল মোত্তালিব ও প্রধান কার্যালয়ের এজিএম আহম্মদ হোসেন।

পরে এ তিনজনের নামে আব্দুল বারিক মন্ডল দুর্নীতি দমন আইনে রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলা করেন। মামলার তদন্ত করে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম। অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও কোম্পানির ৬০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।

জানা গেছে, আব্দুল মোত্তালিবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি রাজশাহী শাখায় কর্মরত। বিভিন্ন সময়ে নানা অপরাধ করলেও বরাবরই পার পেয়ে গেছেন। কিছু শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সুসম্পর্ক ও তাদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকার কারণে তার বেশির ভাগ অপরাধই ধামাচাপা পড়ে গেছে।

আব্দুল মোত্তালিব নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুরের বাসিন্দা। কিন্তু পরিবার নিয়ে রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকায় বসবাস করেন। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যাজুয়াল সুপারভাইজার হিসেবে আইসিবিতে তার কর্মজীবন শুরু। সে সময় তিনি রাজশাহী কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিধি ভেঙে পড়াশোনা ও চাকরি দুটিই চালিয়ে যান। ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর সনদ দাখিল করে তিনি জুনিয়র অফিসার হন। সিনিয়র পাঁচ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে ২০১৭ সালে তিনি ডিজিএম পদোন্নতি পান।