‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ১’-এ পরামর্শক নিয়োগ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মহাসড়কটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, দরপত্র তৈরিতে সহায়তা এবং নিযুক্ত ঠিকাদারের কাজ তত্ত্বাবধান করবে। পরামর্শক কাজের পেছনে সব মিলিয়ে ব্যয় হচ্ছে ২৮০ কোটি টাকা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-১-এর মাধ্যমে মহাসড়কটির পাঁচটি অংশে চার লেনের বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া একটি ছয় লেনের ফ্লাইওভার এবং ১৩টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণ করা হবে।
এসব কাজের জন্য জাপান ও বাংলাদেশের আটটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত করা হয়েছে। জয়েন্ট ভেঞ্চারভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জাপানের নিপ্পন কোয়ি কোম্পানি লিমিটেড, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেড ও কাতাহিরা অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল এবং বাংলাদেশের ডেভকনসালট্যান্টস লিমিটেড, নিপ্পন কোয়ি বাংলাদেশ লিমিটেড, ডিজাইন, প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড, কেএস কনসালট্যান্টস লিমিটেড ও অনুসন্ধানী ক্রিডস লিমিটেড।
গত ১২ জানুয়ারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। চুক্তির মেয়াদ ২০৩২ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশী মুদ্রায় চুক্তিমূল্য ২৮০ কোটি ৬১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫১ টাকা।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১৫৯ কিলোমিটার। বহদ্দারহাট মোড় থেকে শিকলবাহা ‘ওয়াই জংশন’ পর্যন্ত আট কিলোমিটার এবং কক্সবাজার শহর থেকে লিংক রোডের বাঁকখালী নদী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক এরই মধ্যে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ১’-এর মাধ্যমে আরো প্রায় ২৪ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর বাইরে ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ১’ নামের পৃথক আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে চকরিয়া পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতের জন্য একটি সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়নে আগেও একাধিকবার সমীক্ষা করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ২০১৩-১৫ সালে সমীক্ষা চালায় সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তী সময়ে জাপানের কোম্পানি মারুবেনিকে দিয়ে চালানো হয় আরেক দফা সমীক্ষা। ২০১৯ সালে প্রতষ্ঠানটি সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ আরেকটি সমীক্ষা চালিয়ে ২০২১ সালে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সমীক্ষাও আলোর মুখ দেখেনি।
জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত মহাসড়ক হলেও এর বড় একটি অংশের প্রস্থ ১৮-২২ ফুট। তবে চট্টগ্রাম থেকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন অংশ সম্প্রসারণ করে ৩৪ ফুটে উন্নীত করেছে সওজ। একাধিক বনের কারণে কেরানীহাট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সড়কটির সাময়িক সম্প্রসারণকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এ পথ দ্রুত সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে। ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ ব্যানারে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলন করেছেন স্থানীয়রা।










