ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একইসঙ্গে এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহের পর নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে বিএসটিআই। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ‘ঘি’তে নির্ধারিত মাত্রায় মিল্ক ফ্যাট নেই। বরং পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে সেটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। অন্যদিকে বম্বে সুইটসের কয়েকটি মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী বিভিন্ন পরামিতিতে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বম্বে সুইটসের নির্দিষ্ট ব্যাচের কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা নির্ধারিত মানের তুলনায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বেশি থাকায় অকৃতকার্য হয়েছে।
বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যাচের নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি, ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।
পরীক্ষায় এসব পণ্যের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেনস্কে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্য রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআই কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএসটিআই মহাপরিচালক।










