সাতক্ষীরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে বাবলু সরদার (৫৫) নামে এক ‘মাদক ব্যবসায়ী’র মৃত্যু হয়েছে। তিনি দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত জুড়ন সরদারের ছেলে। গতকাল ভোর রাতের কোনো এক সময়ে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তার পরিবারের দাবি, বাবলুকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী বাবুল আত্মহত্যা করেছেন।
সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইয়াছিন আলম চৌধুরী দাবি করেন, শনিবার ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী বাবলু সরদারকে বসন্তপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল। রাতের কোনো এক সময়ে ডিবি অফিসের গারদের মধ্যে গ্রিলের সঙ্গে কোমরে থাকা সুতালি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
তিনি বলেন, গতকাল সকালে অফিসে এসে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাবলু সরদার কী কারণে আত্মহত্যা করেছে সেটি এখনো জানা যায়নি।
এদিকে বাবলু সরদারের মেয়ে সুলতানা মুন্নি জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য এসে তার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বোরকা পরিহিত একজন মহিলা ছিলেন। ঘরের এক জায়গা থেকে ৪৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। বাড়িতে থাকা অবস্থায় বাবাকে হ্যান্ডকাফ দিয়ে ডিবি পুলিশ সদস্যরা মারপিট করেছিলেন। তাছাড়া বাড়িতে থাকা ৩৫ হাজার টাকাও পুলিশ নিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমার বাবা আত্মহত্যা করবে কেন। বাবার কোমরে কখনো সুতালি রাখতেন না। বাবাকে মারপিট করে মেরে ফেলেছে তারা। মুন্নি আরো দাবি করেন, ওই নারীই তারা বাবার ঘরে ফেনসিডিল রেখে গিয়েছিলেন।
স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড : সাতক্ষীরায়
যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় স্ত্রী শিপ্রা ঘোষকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী কার্তিক ঘোষকে (৪০)
মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় অপর পাঁচ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। গতকাল সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক এমডি আজম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আসামি কার্তিক ঘোষ তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের তেজেন্দ্র নাথ ঘোষের ছেলে।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৩ মে পাটকেলঘাটা থানার রাজেন্দ্রপুর গ্রামে যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় স্বামী কার্তিক ঘোষ তার স্ত্রী শিপ্রা ঘোষকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় শিপ্রা ঘোষের মা নমিতা ঘোষ পাটকেলঘাটা থানায় পরদিন একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ মামলায় কার্তিক ঘোষসহ ছয়জনের নামে চার্জশিট দেয়। আদালতে এ ঘটনায় ১৮ জন তাদের সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক আসামি কার্তিক ঘোষের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। একই সময় এ মামলার অপর পাঁচ আসামি যথাক্রমে চায়না ঘোষ, জুতিখা ঘোষ, পচা ঘোষ, জয়দেব ঘোষ ও সুন্দরী ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন।









