নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে ‘এনার্জি ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত পাঁচটি প্রকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে।
পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) আয়োজিত এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহায়তায় চতুর্থবারের মতো এ আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, দেশব্যাপী ১০৬ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ১৫ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্বে তারা নিজেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রোটোটাইপ বা মডেল উপস্থাপন করেন। জুরি বোর্ডের সদস্যরা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা মূল্যায়ন করেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় ভর্তুকি ও প্রণোদনার অভাবে এ খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। স্থানীয় উদ্ভাবনগুলোর বাজার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ভবিষ্যতে আরো ঘনীভূত হতে পারে। তাই নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও সরকারি বিনিয়োগ জরুরি।
ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দীপল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, যারা প্রকৃত সমাধান নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের কাছে উদ্ভাবনগুলো পৌঁছানো কঠিন। জীবাশ্ম জ্বালানিতে যে পরিমাণ লোকসান হচ্ছে, তা কোনো সরকারের পক্ষেই সামাল দেয়া সম্ভব নয়। এ জন্য একটি ‘স্মার্ট ডেসপারেট প্ল্যান’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পৃথক বাজেট প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির সহকারী অধ্যাপক ড. হিমাংশু রঞ্জন ঘোষ বলেন, প্রতিযোগিতায় উঠে আসা উদ্ভাবনগুলো ভবিষ্যতে মানুষের কল্যাণে কতটা কাজে আসবে, সেটিই মূল বিষয়। দেশে এসব ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে সব উদ্যোগকে বাস্তবমুখী হতে হবে। দেশের জ্বালানি সংকট জটিল হওয়ায় আগে সমস্যা চিহ্নিত করে এরপর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে ১৫ প্রতিযোগীকে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রকল্পকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ দেয়া হয়।
ফেলোশিপ পাওয়া পাঁচ তরুণ হলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) আলী রাফতানুর ইমন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) মাশিয়াত রওনক প্রীতম ও সাওদা রাহনুমা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মো. মাহফুজুর রহমান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তামান্না সুলতানা।
অনুষ্ঠানে জুরি বোর্ডের সদস্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মো. শিহাব উদ্দিন, শালবৃক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আলম সুমন ও স্রেডার সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্য দেন প্রানের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর উম্মে সালাম পপি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের জোহরা বিনতে জামান বনি।










