কাউকে পিছিয়ে না রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সমাজে নারীর অন্তর্ভুক্তি জোরদার করতে সরাসরি নারীদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের (সিডব্লিউসিএস) আয়োজনে ‘বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে পরিবর্তনের পক্ষে জনমত গঠন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাজ ফারহানা।

নারীর অগ্রযাত্রায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারী শিক্ষা অবৈতনিক ও উপবৃত্তি ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নারীরা যাতে নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে দেশে প্রথম ডে-কেয়ার সেন্টারও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সরকার এ সুবিধা আরো আধুনিক ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নারীদের জন্য সঠিক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা গেলে নারীরা শুধু নিজেদের জন্যই কর্মসংস্থান তৈরি করবে না, বরং সমাজের অন্যান্য কর্মক্ষমদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তিনি কেয়ার ইকনোমি এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি সমাজে বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বক্তারা নারী স্বাস্থ্য রক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীদের বিনা জামানতে ঋণ প্রদান ও ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করে নারীদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ইসরাত শারমিন।

অনুষ্ঠানে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি), সাউথ এশিয়ান উইমেন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সিলন চেম্বার অব উইমেন অন্ট্রাপ্রেনার, পূর্ণিমা, জেরেসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।