খালেদা জিয়া সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আজীবন লড়াই করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন আপসহীন। দেশপ্রেমকে তিনি আজীবন লালন করেছেন। তিনি বলতেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কিন্তু প্রভু নেই—দেশই আমার আসল ঠিকানা। এভাবে তিনি সত্যিকার অর্থেই দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। তাই খালেদা জিয়া শেষযাত্রায় মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, যা ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে। দেশের মানুষ তাকে অনন্তকাল মনে রাখবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে তার নাম লেখা থাকবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শোকসভার আয়োজন করা হয়। এতে রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, লেখক, গবেষক, ধর্মীয় ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক এবং পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, তাদের সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান। তবে এ আয়োজনে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের কেউ বক্তব্য দেননি।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। এ শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। শুরুতে শোকগাথা পাঠ করেন নাগরিক শোকসভার সমন্বয়ক সালেহ উদ্দিন।

বক্তব্য দেন দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নূরুদ্দিন খান, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষে বিশপ সুব্রত বি গোমেজ, অর্থনীতিবিদ ও পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষাবিদ ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী।

এছাড়া কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, প্রয়াত খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিক, নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক  মাহফুজ আনাম, দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, ব্রিটিশ আইনজীবী ও মানবাধিকার নেত্রী আইরিন খান, সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বিপিকেএসের সিইও এবং ডিপিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার দুলাল, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ, লেখক ও চিন্তক ফাহাম আব্দুস সালাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বক্তব্য দেন।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন ভুয়া মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন, তখন তার পক্ষে কেউ কথা বলেননি। তার বিচারটি ছিল অদ্ভুত ও জঘন্য। তখন এ নিয়ে বিবৃতি নিয়ে অনেক গণমাধ্যমে গিয়েছি। কিন্তু কেউ তা ছাপাতে সাহস করেননি। সময়ের ব্যবধানে একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে। আরেকজন বিতাড়িত। খালেদা জিয়া সৎ ও সাহসী ছিলেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তাকে ধারণ করতে হবে।’

khaleda-zia_Condolence_CC_16012026_07

শোকসভায় পরিবারসহ যোগ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তাদের কেউই বক্তব্য দেননি

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, ‘আমরা একটি সংকটকালে আছি। যেকোনোভাবেই হোক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন হয় আমি সেটা চাই। ভোট কেন্দ্রে সবাইকে যেতে হবে উৎসবমুখরভাবে। ভোটের পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।’

সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন একাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সময়ের অংশীজন। বাংলাদেশের সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। তার জীবন এক দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা। রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি তিনি বহন করেছেন ব্যক্তিগত বেদনা, নিঃসঙ্গতা ও সীমাহীন ত্যাগ। তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা সংযত ও আত্মমর্যাদাশীল। কঠিন সময়েও তিনি নিজের অবস্থান থেকে বিচ্যুত হননি। প্রতিহিংসামূলক মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। কারামুক্তির পর ঘৃণার বদলে শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা তিনি দিয়েছিলেন।’

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সময়টাকে তিনটি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে হবে। এক কঠিন মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্থান পর্ব। তখন তিনি ছিলেন আপসহীন। সরকার গঠন। এ সময়ে তার সাফল্য ও ব্যর্থতা আছে। আর ২০০৭ সাল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় দিতে হবে তিনি নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথম প্রধানমন্ত্রী।’

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সততার মূর্তপ্রতীক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে ইতিহাস অন্যরকম হতো। তার জানাজাও ঐতিহাসিক জানাজা। খালেদা জিয়ার বেলায়ও তাই হয়েছে। মৃত্যুকালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকলেও খালেদা জিয়া ছিলেন ক্ষমতার বাইরে। তারপরও শেষ বিদায়ে মানুষের অজস্র ভালোবাসা পেয়েছেন। কারণ, তিনি কোনোদিন মাথা নত করেননি।’

বাসুদেব ধর বলেন, ‘রাজপথে খালেদা জিয়াকে দেখেছি। সেখানে আমরাও ছিলাম। যেখানেই অধিকার খর্ব হয়েছে, সেখানেই আমরা তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। আজকে আমরা এক নতুন পরিস্থিতিতে। একটি কথাই নিবেদন করতে চাই—এবারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ যেন আমরা হাতছাড়া না করি। এটিই হবে খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান নিবেদন।’

রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে দুটি নিদর্শন উনি রেখে গেছেন। উনার আগে কোনো সরকার গ্রাম পর্যায়ের যে নেতা আছেন তাদের পদকে এত গুরুত্ব দেননি, যা সম্মানী ভাতা দিয়ে তিনি করে গেছেন। এছাড়া ২০০৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন অ্যাক্টকে সংশোধনী করে সারা দেশে যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রক্রিয়া চলছিল, সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি আইন প্রণয়ন করেন।’

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমি স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করি। খালেদা জিয়ার আমলে তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছি। তিনি উৎসাহিত করতেন। গণতন্ত্রে তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বিগত সরকার তাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। এত কিছু করার পরও ৭ আগস্ট তিনি আমাদের যে বাণী দিয়েছেন তা তার উদারতার পরিচয় বহন করে। তিনি বলেছেন, ধ্বংস নয়। ভবিষ্যতের ভালোবাসা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার এ বাণীকে যেন আমরা লালন করি।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে গেছেন যে তিনি কেবল জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; সত্যিকারভাবে মানুষ এবং দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা তার জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। তার মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ থাকলেও এ দলের রাজনীতি ও কর্মকৌশলের সঙ্গে কখনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে তার যে গুণটি আমাকে বরাবর আকৃষ্ট করেছে তা হলো তার সংযম, পরিমিতিবোধ ও আত্মমর্যাদা। এটি ইতিহাস অনন্যতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বহুমাত্রিক জীবনের বিভিন্নভাবে আলোচনা হতে পারে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল নীতি বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করার। ২০০৩ সালে বিদেশী তেল কোম্পানি বলেছিল বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে। খুব দ্রুত তেল উত্তোলন করে সেটি ভারত এবং অন্যান্য দেশে রফতানি করা উচিত। একই সময়ে সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেছিলেন, ৫০ বছরের গ্যাস রেখে বাকিটা আমরা রফতানি করতে পারব। সরকার যে জাতীয় কমিটি গঠন করে সে সময় আমি ছিলাম তার সদস্য। এক মিটিংয়ে আমি বলেছিলাম খালেদা জিয়াকে যে আমাদের দেশে ৫০ বছরের গ্যাস নেই। তিনি আমাকে প্রশ্ন করছিলেন আর আমি উত্তর দিচ্ছিলাম।’

আব্দুস সাত্তার দুলাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছিল ব্যতিক্রম। তিনি বিরল উদাহরণ। আশা করি তার ছেলে বিএনপির তারেক রহমানও সেই লিগ্যাসি ধারণ করে চলবে।’

আনোয়ার হাশিম বলেন, ‘খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। এখানে তিনটি দিক ছিল। একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। অন্যটি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নীতি। এর প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি ছাপ রেখে গেছেন।’

এসএমএ ফায়েজ বলেন, ‘খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন মেধাভিত্তিক নিয়োগ। যার জন্য কোনো নিয়োগে উনার কোনো তালিকা ছিল না।’

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘তার সময় রাজস্ব ব্যবস্থার বড় রকমের সংস্কার ঘটেছে। আজকে নারীদের অগ্রযাত্রা তার সময়েই শুরু। শ্রমযাত্রাও সেই সময়ে ঘটেছে। অর্থনীতির আধুনিকীকরণে তিনি তার স্টাইলে বাংলাদেশে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন।’

লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিএনপি ২০ বছর অত্যাচারের পরও জনগণের ভালোবাসায় টিকে রয়েছে। এর মূল কারণ খালেদা জিয়ার দৃঢ়চেতা রাজনীতি।’

ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘মানুষ বেগম জিয়াকে অনন্তকাল স্মরণ করবে। কারণ, দেশের জন্য তার ত্যাগ ও নিষ্ঠা অপরিসীম। তিনি এদেশের মানুষ, গাছ, লতাপাতা ও পানি ভালোবাসতেন। বলতেন, দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলেও তার আদর্শ চির অম্লান হোক।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ (ইচ্ছাকৃত অবহেলা) হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে খালেদা জিয়ার লিভারের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়।’ তিনি আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার ‘চিকিৎসাসংক্রান্ত অবহেলার’ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরামর্শ দেন।

সিমিন রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সময় ভ্যাট পলিসি, আর্থিক খাতের সংস্কার, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনীতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হয়। প্রবাসী আয়, রফতানি বৃদ্ধি উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করা হয়। তৈরি পোশাক শিল্পে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৯৪ সালে ওষুধের মূল্যনীতির ফলে ওষুধ শিল্পে গুণগত উন্নয়ন, গবেষণা ও বিনিয়োগ বেড়েছিল। যার ফলে বাংলাদেশ আজ ওষুধে নিজের ওপর শতভাগ নির্ভরশীল।’

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে। একই সময়ে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তার কিছু উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জেআর মোদাচ্ছির বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নাম খালেদা জিয়া। তিনি সাধারণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না। ছিলেন রাজনৈতিক আদর্শ। ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়চেতা। কঠিন সময়েও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধ্বংস নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমার বিবেচনায় তিনি বিচক্ষণ। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেয়ার দাবি জানাই।’

নাগরিক শোকসভায় শ্রোতাদের সারিতে স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য রাখেননি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির কোনো নেতাও বক্তব্য রাখেননি।

শোকসভায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

এছাড়া যুগপতের শরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

খালেদা জিয়ার শোকসভায় জামায়াত ও এনসিপির কাউকে দেখা যায়নি। তবে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।