জলবায়ু বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নীতিগত অঙ্গীকারসমূহকে অর্থায়নযোগ্য ও বাস্তবায়নমুখী প্রকল্পে রূপান্তরের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় শেষ হয়েছে বিসিডিপি নলেজ কনফারেন্স ২০২৬।
গত ৮ অক্টোবর সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। সমাপনী অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং এডিবি-র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আকিরা মাৎসুনাগা।
সম্মেলন-পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আকিরা মাৎসুনাগা বলেন, এ অংশীদারিত্বের প্রকৃত সাফল্য পরিমাপ করা হবে মূলত সম্মেলনের পর আমরা কী পদক্ষেপ নিচ্ছি তার ওপর। নীতিগত আলোচনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারদের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সমাপনী প্লেনারিতে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারি প্যানেল-এর সাবেক সদস্য ড. আহসান উদ্দীন আহমেদ শিল্প, পানি, কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি এবং পরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন। এছাড়া, এডিবি তাদের কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং মন্ত্রণালয় বিসিডিপির কার্যনির্বাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর (ওয়ার্কিং গ্রুপ) মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও সময়সীমা নির্ধারণ করে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
সম্মেলনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ড. আহসান উদ্দীন আহমেদ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ), এনডিসি ৩.০ এবং বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ (ডেল্টা প্ল্যান)-এর মধ্যে সমন্বয় সাধন, স্বাধীনভাবে অর্থায়নযোগ্য (ব্যাংকযোগ্য) প্রকল্পগুলোর একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক পাইপলাইন তৈরি এবং একটি শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন ও যাচাইকরণ (এমআরভি) ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অভিযোজন খাতে ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং লো-কার্বন ডেভেলপমেন্ট-এর জন্য আরো ১৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ অনুবিভাগের প্রধান এ কে এম সোহেল। সমাপনী আলোচনায় বিসিডিপির একটি সমন্বিত ও বৃহত্তর রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। প্রথম দিনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আব্দুল আউয়াল মিন্টু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং জাতীয় বিসিডিপি ওয়েব পোর্টাল চালু করেন, সমাপনী দিনে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা, অ্যাকাডেমিয়া, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রতিনিধিসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি আলোচনায় অংশ নেন।










