পদ্মা সেতু চালুর পর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বেনাপোল দিয়ে সড়কপথে ২০২৩ সালে ভারতে গেছে ১১ লাখ ৮১ হাজার ৮ পাসপোর্টধারী যাত্রী। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬১ হাজার ৮৪৮। এক বছরে যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ১৬০ জন। এ সময় ভ্রমণ কর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ভিসা ফি বাবদ ভারত সরকারের আয় হয়েছে প্রায় একই পরিমাণ অর্থ।

যাত্রীদের অভিযোগ, যাত্রী সংখ্যা বাড়লেও বন্দরে সেবার মান বাড়েনি, রয়েছে দালালের হয়রানি। বাংলাদেশ অংশে যাত্রী ছাউনি ও ভারত ইমিগ্রেশনে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় যাত্রীর দুর্ভোগ কমছে না। আবার ইমিগ্রেশনের জন্য সীমান্তে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গত বছরের নভেম্বরে লাইনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় এক নাগরিক মারা গেছে।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের তত্ত্বাবধায়ক নাহিদুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বেনাপোল বন্দর থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ রুট দুই দেশের যাত্রীদের পছন্দের। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ পথে যাত্রীদের যাতায়াত আরো বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ছয়-সাত হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করছে। এদের অধিকাংশ ভ্রমণ করে ভারতে চিকিৎসাসেবা নিতে।’

যাত্রীসেবা বাড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে যাত্রী ছাউনি ও বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের পরিধি বাড়াতে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।’

বেনাপোলে একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করছেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে ভারত ইমিগ্রেশনে জনবল না বাড়ায় সীমান্ত অতিক্রম করতে ৫-৬ ঘণ্টা কেটে যায়।’

গতকাল সকালে ভারতে যাওয়ার পথে পাসপোর্টধারী যাত্রী মমিনুল ইসলাম জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যাচ্ছেন। পদ্মা সেতুর কল্যাণে ঢাকা থেকে রাত সাড়ে ৩টার মধ্যে বাস পৌঁছাচ্ছে বেনাপোল বন্দরে। আর বন্দর খুলছে সকাল সাড়ে ৬টায়। বন্দরে যাত্রী ছাউনি না থাকায় প্রচণ্ড শীতের মধ্যে পরিবার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সময় পার করতে হয়েছে। দালালরাও হয়রানি করে।

আরেক যাত্রী যশোর শহরের বেজপাড়ার শহিদুল হক বলেন, ‘বেনাপোলে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আগে পার হওয়া যায়। নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।’

বন্দরের এমন কার্যক্রমে খুশি নন ব্যবসায়ীরাও। তাদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ঠিকঠাক সেবা দেয় না। এ প্রসঙ্গে বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘প্রতি বছর ভ্রমণ খাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ১০০ কোটি আয় হয়। ভিসা ফি বাবদ ভারত সরকারের আয়ও প্রায় একই পরিমাণ অর্থ। এ পথে যাত্রীদের যাতায়াত বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা বাড়েনি।’