দেশের বিভিন্ন জেলায় অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিলেও দিনাজপুরের হিলিতে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ৮১৩ হেক্টর জমির আমন ধান আবাদ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জমিতে পানির অভাবে আমন ধান রোপণ করতে পারছেন না অনেক কৃষক। অনেকে বাধ্য হয়ে শ্যালোমেশিন বসিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। অন্যদিকে যেসব জমিতে আগেই আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে, সেসব জমি পানির অভাবে ফেটে ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। জমিতে পানি না থাকায় আগাছা জন্মাচ্ছে। ধানের গাছ হলুদ বর্ণের হয়ে মরে যাচ্ছে। আরো কিছুদিন বৃষ্টি না হলে ধানের আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলিতে সব মিলিয়ে ৮ হাজার ১২৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান এবং ৭ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে উফশি জাতের ধান আবাদ করা হবে। এখন পর্যন্ত হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। ৭ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে উফশি জাতের ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে পানি সংকটের কারণে ৮১৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
হিলির হরিহরপুর গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে অধিকাংশ জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্তমানে পানির অভাবে বেশকিছু জমিতে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের অন্যান্য জেলায় অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে অনাবৃষ্টির কারণে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির জন্য অনেক দিন অপেক্ষার পর এখন গভীর নলকূপ চালু করে সেখান থেকে পানি তুলে জমি সেচ দেয়া হচ্ছে। ফলে আমাদের আমন ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আসলাম হোসেন বলেন, আমি পাঁচ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষাবাদ করি। প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতেই আমন ধান রোপণ করা হয়। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পানি নেই। আমি ধান লাগাতে পারছি না। আমার মতো অনেকের জমি পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে আছে।
একই গ্রামের অন্য কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমন আবাদের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাধ্য হয়ে শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছি। জমি তো আর ফেলে রাখা যাবে না। অনেকেই পানির অভাবে ধান লাগাতে পারেননি।
হিলির জালালপুর গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, আগাম বৃষ্টি হওয়ায় আমি পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছি। কিন্তু ধান লাগানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে গেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ধানের চারা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, জমিতে ইউরিয়া সার দেয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে। আমরা পানির অভাবে তা দিতে পারছি না।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, এ উপজেলায় খরা দেখা দিয়েছে। ফলে কিছু জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হলেও পানি সংকটের কারণে সেচ দেয়া যাচ্ছে না। সব ধান ক্ষেতের মাটি ফেটে যাচ্ছে। আবার কিছু জমিতে পানি না থাকায় কৃষক ধান লাগাতে পারছেন না। আমন মৌসুমে সেচের সুবিধা খুব একটা থাকে না। কৃষকদের ডিপটিউবওয়েল বা সেচযন্ত্রগুলোও বন্ধ থাকে। এ কারণে ওই জমিগুলোতে সেচ দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমরা এমন জমিতে কৃষকদের সম্পূরক সেচ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই ভারি বর্ষণ হবে। এতে চলমান ভোগান্তি থেকে কৃষকরা রক্ষা পাবেন।










