জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে; তেমনি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাদের শঙ্কা, ভোটকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়সহ বাড়িঘরে হামলা চালাতে পারে একটি পক্ষ। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন যশোরের বিশিষ্টজনরা।

গতকাল দুপুরে যশোর শহরের লালদীঘিরপাড়ের হরিসভা মন্দির মিলনায়তনে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানানো হয়।

বৈঠকে পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘দেশে কোনো নির্বাচন হলেই বিভিন্ন কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। কখনো অত্যাচার এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যা ভয়ানকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০০১, ২০১৪, ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনেও দেখেছি ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। পছন্দের দল বা ব্যক্তির পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন সহ্য করতে হয়। তবে যে ব্যক্তি বা যে দলের পক্ষে ভোটাধিকার প্রদান করার ফলে মানুষ নির্যাতিত হয় তাদের পক্ষ থেকে এর কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ হয় না। এটা দুঃখজনক।’

যশোর পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, সিআইপি ব্যবসায়ী শ্যামল দাস, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, দৈনিক সমাজের কথার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আমিনুর রহমান মামুন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনোতোষ বসু, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি যশোরের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।