মেয়েদের খেলায় পরপর দুদিন দুই বিজয় উৎসব হলো। গত রোববার দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী ক্রিকেট দলের স্মরণীয় টি২০ ম্যাচ জয়ের পরদিন গতকাল ফিফা প্রীতি ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত (ফিফা টায়ার-১) প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৩-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। গতকাল একই মাঠে আরো বড় ব্যবধানে জিতল সাবিনা খাতুনের দল।
শুরু থেকেই কর্তৃত্ব করা বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ৩-০ গোলের লিড নেয়। লাল-সবুজ জার্সিধারীরা দ্বিতীয়ার্ধে করে আরো পাঁচ গোল! তহুরা খাতুন ও রিতুপর্ণা চাকমা উভয় করেন জোড়া গোল। তারাই প্রথমার্ধে ৩-০ গোলের লিড এনে দেন। এতে তহুরার দুটি ও রিতুপর্ণার একটি গোল ছিল। পরে ৬২ মিনিটে আরেক গোল করেন রিতুপর্ণা। এছাড়া ৫৭ মিনিটে সানজিদা খাতুন, ৭৫ মিনিটে সাবিনা খাতুন, ৮৭ মিনিটে মাতসুশিমা সুমাইয়া ও ৯১ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র গোল করলে বিশাল জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
১৭ মিনিটে তহুরার দারুণ ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১ মিনিট পরই সাবিনার কর্নারে আলতো টোকায় ব্যবধান ২-০ করেন রিতুপর্ণা। ২৫ মিনিটে রিতুপর্ণা গোলমুখে জোরালো শট নিলে গোলকিপার বল ধরতে গেলে হাত ফসতে বেরিয়ে যায়, তখন তহুরা সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে ক্ষিপ্রগতিতে বল জালে জড়ান। এ ছন্দ ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধে আরো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে একের পর এক গোলে বেসামাল করে তোলেন স্বাগতিক ফুটবলাররা।
অবশ্য এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় নয়। ২০১০ সালে ভুটানকে ৯-০ গোলে হারানোর কীর্তি আছে বাংলাদেশের নারীদের। তার পরই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয়।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হয়ে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। শুক্রবার ঢাকায় দ্বিতীয়বারের দেখায় সিঙ্গাপুরকে একই ব্যবধানে হার ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। গতকাল তাদের আরো বড় লজ্জা দিলেন সাবিনারা।
গত বছর নেপালের মাঠে সাফ শিরোপা জয়ের পর নিষ্প্রভ ছিল বাংলাদেশ। মাঝের এ সময় পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হারেন সাবিনারা, ড্র হয় দুটি। অবশেষে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই ম্যাচে দাপট দেখিয়ে জিতল বাংলাদেশ।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরকে ৮ গোলে বিধ্বস্ত করার পর সাবিনাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রশংসা করলেন হেড কোচ সাইফুল বারী টিটু। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও খেলোয়াড় ছিলাম, প্রথম ম্যাচ হয়তো আমাদের জন্য কঠিন ছিল না, স্বাচ্ছন্দ্যেই জিতেছিলাম, কিন্তু এবার এত বড় ব্যবধানে জিতব, ভাবিনি। প্রথম জয়ের পর আবারো সবটুকু নিংড়ে দেয়া—এ কৃতিত্ব পুরোপুরি মেয়েদের। ভিন্নমাত্রার মানসিকতা এই মেয়েদের।’অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ১৫ মিনিটের মধ্যে গোল তুলে নেয়া। মেয়েরা ভালো খেলেছে, সবার প্রচেষ্টা ছিল, আমার মনে হয় মেয়েরা ২০০ ভাগ দিয়ে খেলেছে।’










