চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা অনুমোদন জটিলতা কাটিয়ে দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। দেশে ফেরা যাত্রীদের প্রত্যেককে করোনার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর টেস্ট করার কথা থাকলেও কারো কোনো টেস্ট করা হয়নি। এতে করে নভেল করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার আতংঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
গতকালও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ৩৭ জন দেশে ফিরেছেন। সম্প্রতি ভারত থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশীদের বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের নেয়া কার্যক্রম পরিদর্শন করতে এসে দিনাজপুর সিভিল সার্জন সবার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ও আরটিপিসিআর টেস্ট করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, একে তো ভারত থেকে আটকে পড়া যাত্রীরা দেশে ফিরছেন, এতেই আমরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। যে কয়টি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা দেশে ফিরছেন, তাদের করোনা নেগেটিভ সনদ থাকার পরও পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের এ স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল থেকে যাত্রী পারাপার শুরু হলেও তাদের কোনো করোনা টেস্ট করানো হচ্ছে না। এর ওপর তাদের সবাইকে স্থানীয় জনবসতির মধ্যে অবস্থিত আবাসিক হোটেলগুলোতে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। যেখান থেকে তারা অনেকেই হোটেলের নিচে নেমে পণ্য ক্রয় করছেন। যেহেতু তাদের টেস্ট করা হচ্ছে না, তাই তাদের মধ্যে কে করোনা পজিটিভ সেটি যেমন বোঝা যাচ্ছে না, তেমনি তাদের দ্বারা স্থানীয়দের মাঝে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রথমে সব যাত্রীর করোনা টেস্ট করা হবে বলে জানানো হয়েছিল কিন্তু এখন তাদের টেস্ট না করায় আমরা করোনার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।
হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, সম্প্রতি হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পরিদর্শনে এসে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ভারত থেকে আগত সব যাত্রীর করোনা টেস্ট করা হবে বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু গতকাল ৩৭ জন বাংলাদেশী যাত্রী এ পথ দিয়ে দেশে ফিরলেও কোনো যাত্রীর করোনা টেস্ট করা হয়নি। যেহেতু ভারতে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর ওপর করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অনেক ভয়াবহ। এমন অবস্থায় ভারত থেকে আগত যাত্রীদের করোনা টেস্ট না করায় এলাকাবাসী যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি আমরাও আমাদের নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কিত। তাই অবিলম্বে তাদের করোনা টেস্টের আওতায় নেয়া হোক এ দাবি জানাচ্ছি।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গাদ্দাফি শিকদার বলেন, ভারত থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের করোনা টেস্টের বিষয়ে বার বার সিদ্ধান্ত বদল হচ্ছে। র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট যাদের লক্ষণ রয়েছে শুধু তাদের ছাড়া অন্য কারো করার সুযোগ নেই।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আসলে কভিডের প্রত্যেকটি বিষয় নতুন, আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের প্রধান বলেছেন অ্যান্টিজেন টেস্ট করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। যদি কারো লক্ষণ ছাড়া ১০০ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করি, তাদের ১০০ জনের করোনা নেগেটিভ আসছে—তাহলে তো লাভ নেই। যারা ভারত থেকে আসছে তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কভিড নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তাদের মধ্যে যারা সুস্থ তাদের অবশ্যই ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠাচ্ছি। আর যারা একটু অসুস্থ তাদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাচ্ছি। এখন আমরা তাদের মধ্যে সন্দেহজনকদের নমুনা সংগ্রহ করে আরটিপিসিআর টেস্টে পাঠাব, যদি কারো পজিটিভ আসে তাকে আলাদাভাবে রাখব।










