বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের বাজারে পাটের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং পাটজাত পণ্য রফতানি বাড়াতে মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়িতে অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পাট অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঘিওর বাজারে দুলাল চন্দ্র সাহার গুদামে দেড় হাজার মন পাট মজুদ পাওয়া যায়। ১০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত পাট বিক্রির জন্য মুচলেকা নেয়া হয়। একই জেলার মেসার্স সামেজ উদ্দিন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নুরুল হকের গুদামে দেড় হাজার মন পাট মজুদ থাকায় ৭ দিনের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ১ হাজার মনের বেশি পাট মজুদ করা আইনগত অবৈধ।
মানিকগঞ্জ জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শায়খ শিহাব উদ্দিন ও মুনতাছির মামুন মনি এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পাট অধিদপ্তর, নারায়নগঞ্জের সহকারী পরিচালক মাহবুব হোসেন, পাট অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের পরিদর্শক আশিক কুমার ভৌমিক, উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা -দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজারে পাটের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানে পাট ব্যবসায়ী চন্দন কুমারের গুদামে ৭৫০মন পাট, গোবিন্দ কুন্ডুর গুদামে ২৫০ মন, গোবিন্দ চন্দ্রের গুদামে ৪৫০ মন, গোলাম রব্বানীর গুদামে ৭০০ মন, নুর মোহাম্মাদের গুদামে ৮৫০ মন, কামাল হোসেনের গুদামে ৯০০মন পাট পাওয়া যায়। এদের ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পাট বিক্রির আদেশ দেয়া হয়।
পরবর্তীতে পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ও বনগ্রাম বাজারে অভিযানে বাসুদেব ও দীপক দাসের যৌথ মালিকানাধীন গুদামে মোট ১ হাজার ৯০০ মন পাট এবং সুদীপ্ত কুমার, আব্দুল হাকিম ও তহমিনা খাতুনের যৌথ মালিকানাধীন গুদামে ২ হাজার মন পাট মজুদ পাওয়া যায়। এ ব্যবসায়ীদেরও ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পাট বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয় এবং এ বিষয়ে তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকারনামা নেয়া হয়।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, অবৈধ মজুদদারি পাটখাত ও দেশের রফতানি খাতের জন্য ক্ষতিকারক। অতিরিক্ত লাভের আশায় একটি অসাধু চক্র মজুদ করে থাকে। পাটজাত পণ্য উৎপাদনখাত আরো কাড়াতে এবং পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান চলবে।










