আমরা আগে মনে করতাম, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাব—এটা আমাদের ন্যাচারাল রাইট। কিন্তু সে পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের বুঝতে হবে, জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কী ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে সবসময় বলছি—গ্যাস দাও, জ্বালানি দাও। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, গ্যাস আহরণ বা জ্বালানি সরবরাহ করা খুব কঠিন কাজ। এখানে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সেজন্য প্রত্যেকটি সেক্টর ডেভেলপ করার আগে সেখানে জ্বালানির একটা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
নতুন শহর বা আবাসিক এলাকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে এলপিজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এলপিজি স্টোরেজ করা হলে সেখান থেকে বাসাবাড়িতে সংযোগ দেয়া যেতে পারে। তখন সিলিন্ডার বহন করার প্রয়োজন হবে না। ঢাকায় অনেকগুলো এলপিজি কোম্পানি এভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। এতে বাসাবাড়ি বা কোনো ভবনের দুইতলা, তিনতলা কিংবা পাঁচতলায় সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থা করতে হলে প্রত্যেক সেক্টরে এর জন্য কিছু জায়গা রাখতে হবে। কারণ এখানে সেফটি ইস্যু আছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব—যেমন ১০ বা ১৫ মিটার—রেখে স্টোরেজ স্থাপন করা যেতে পারে এবং বিষয়টি ম্যান্ডেটরি করা উচিত।
যারা নিজস্ব বাড়ি করছেন, প্রত্যেক বাড়িতে হয়তো ডেডিকেটেড কিছু সোলার সিস্টেম করা সম্ভব। এগুলো আইন বা বিধির মধ্যে ইনক্লুড করা উচিত। এখন যে নেট মিটারিং সিস্টেম আছে, তাতে সরকার আপনাকে পেমেন্ট (গ্রিডে দেয়া বিদ্যুতের বিপরীতে) করছে। সুতরাং প্রত্যেকটি অ্যাপার্টমেন্টে যারা থাকবেন, সবাই এ সুবিধার ইকুয়াল বেনিফিশিয়ারি হতে পারেন। এগুলো যদি আমরা না করি, তাহলে বাসাবাড়ি বানানোর পর জ্বালানি পাওয়া যাবে না। এটা কিন্তু বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছোট আকারের জাহাজে সৌর প্যানেল স্থাপন করে হাইড্রোজেন উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে পানীয়জল তৈরি করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও আমরা ইনোভেশন করে ছোট এনার্জির বেনিফিট ইউজ করতে পারিনি।
ভবিষ্যতের শহর ও আবাসিক এলাকা উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ এলপিজি সরবরাহ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে সমন্বয় করেই পরিকল্পনা করতে হবে।










