বাংলাদেশ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া এমন তথ্য দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এ দাবি বাংলাদেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রতিনিধিত্ব করে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ছয় মাসে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ শ্রমিক নিয়োগ করবে বলে এক বাংলাদেশী প্রতিমন্ত্রীর দাবি সম্প্রতি সামনে এসেছে। কিন্তু সেরি ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্য বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
তিনি জানান, দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান তাকে অবহিত করেছেন যে, এ বিবৃতিটি একজন প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে এবং এটিকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ফাহমি বলেন, এটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রতিনিধিত্ব করে না। মানবসম্পদ মন্ত্রী আমাকে এটাই জানিয়েছেন। সুতরাং এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
গত ৩০ আগষ্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ শ্রমিক তারা নেবে। এরমধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক তারা ফ্রিতে নেবে। বাংলাদেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি হবে, সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শোষণ, ঋণ-বন্দিত্ব, জোরপূর্বক শ্রম এবং প্রতিশ্রুত চাকরি ছাড়াই শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় আসার মতো নানা অভিযোগ সামনে আসার পর ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এ সম্ভাব্য শ্রমিক নিয়োগের খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।










