বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরো শক্তিশালী (ঘনীভূত) হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে (রেমাল) পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড়টি আগামী রোববার (২৬ মে) নাগাদ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘রেমাল’। এ নামটি ওমানের দেয়া। এর অর্থ বালু। সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হলে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি এবং গতিপথ ও স্থলভাগ অতিক্রমের স্থান সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আজ(শুক্রবার) মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে নিম্নচাপে পরিণত হলে আরো স্পষ্ট করে বলা যাবে, এটি কোন স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে এবং এটি কোন মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পরবর্তীসময়ে উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে দেশের স্থলভাগের দিকে আসার একটা সম্ভাবনা আমরাও দেখছি।’ আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগামী শনিবার (২৫ মে) থেকে এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হতে পারে ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সুস্পষ্ট লঘুচাপ হচ্ছে ঘণ্টায় ৩১ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হওয়ার অঞ্চল। নিম্নচাপ হচ্ছে একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪১ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। গভীর নিম্নচাপের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। কোনো ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে হলে তাকে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ধরা হয়।