দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্র দমিয়ে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশে আবারো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’
গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দলটি আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব র্যালি’ শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। বেলা সোয়া ৩টায় মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে তারেক রহমান নিজেও তাতে শামিল হন। শোভাযাত্রাটি কাকরাইল, হেয়ার রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়।
শোভাযাত্রা-পূর্ব সমাবেশে নয়াপল্টনে সমবেত হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এ সময় তারা করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’ তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন। বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’
অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারো তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’
এদিন দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড।
বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রাকে বর্ণাঢ্য করে তোলে। বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে শোভাযাত্রায় যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া এভিনিউতে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে যে মহল বাংলাদেশে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত, জনগণ তাদের পরাজিত করেছে। আবারো তারা ষড়যন্ত্র নিয়ে মাথাচাড়া দেয়ার চেষ্টা করছে। আসুন, আজ এ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রতিজ্ঞা। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যত দিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এ বিপ্লবের র্যালি চলমান থাকবে।’
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এদিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ একা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। মোনাজাতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পরে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, চিফ হুইপ নূরুল ইসলামসহ অন্য নেতারা।










