অসুস্থতার কারণে একসময় থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। ২০০৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়ে ওঠেনি। পরে ২০১০ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন কলেজে। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলায় অকৃতকার্য হওয়ায় আবারো থেমে যায় শিক্ষাজীবন। এরপর পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে দীর্ঘদিন আর পরীক্ষায় অংশ নেয়া হয়নি। তবে অসমাপ্ত শিক্ষাজীবন শেষ করার স্বপ্ন বেঁচে ছিল মনে। সেই স্বপ্ন পূরণে দীর্ঘ বিরতির পর আবারো পড়াশোনা শুরু করেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর দরবেশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কাউছার হামিদ সকাল। অবশেষে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলায় অকৃতকার্য হওয়ার পর আর পরীক্ষায় অংশ নেয়া হয়নি তার। এরপর জীবিকার তাগিদ ও পারিবারিক কারণে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবারো উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। দক্ষিণ বনশ্রী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এবার সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কাউসারের এমন সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও শিক্ষকরা।
নিজের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বণিক বার্তাকে কাউছার হামিদ সকাল জানান, ২০১২ সালে অকৃতকার্য হওয়ার পর পুনরায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে সেই পরীক্ষা আর দেয়া সম্ভব হয়নি। এতে অনেকটা হতাশ হয়ে বাস্তবতার কাছে হার মেনে জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান। ফলে পরীক্ষায় অংশ নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৩ সালে দেশে আসার পর দক্ষিণ বনশ্রী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ভর্তি হই।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষের স্বপ্ন পূরণ করা খুব সহজ।’ কাউছার তার এ অর্জনে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার জন্য পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।










