বাংলাদেশে কোনো মেধাবী উদ্যোক্তা বা ভালো আইডিয়ার অভাব নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, অর্থাভাবে দেশের কোনো ভালো উদ্যোগ থেমে থাকবে না, বরং স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে এসব স্টার্টআপ আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নেবে।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কতৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনাকালে আজ তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা।
ফান্ড অব ফান্ডস-কে সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য যেখানে বিনিয়োগকারীরা পূর্ণ আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
প্রধান অতিথি ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে বড় পরিবর্তন আনার একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম। দেশের স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এটি সরকারের নেয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আমরা চাই উদ্ভাবননির্ভর নতুন কোম্পানিগুলো বড় হোক, কর্মসংস্থান তৈরি করুক, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করুক এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জানান, ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চলতি অর্থ বছরের বাজেটে স্টার্টআপ উন্নয়ন খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণসহ বিভিন্ন কর ও ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন যেন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এছাড়া স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই ফান্ডের প্রস্তাবিত কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল ও ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচনপ্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাইকার প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইউকো জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশী ও বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইডকার ফ্যাসিলিটি নতুন ও বিনিয়োগযোগ্য স্টার্টআপের সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী ও পেশাদার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ম্যানেজারদের যুক্ত করে দেশে স্টার্টআপ বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ৪০০ কোটি টাকার প্রাথমিক আকার নিয়ে ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ চালু করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড (এসবিএল) উদ্যোগটির আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে বাংলাদেশী স্টার্টআপগুলোয় আনুমানিক ১ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হলেও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ। সেই জায়গায় ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ প্রতিটি সরকারি মূলধনকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।










