যাচাই-বাছাই ও পুলিশি যাচাই শেষে ৪৯তম বিসিএস বিশেষ পরীক্ষায় প্রথম পর্যায়ে প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীদের নিয়োগের বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কারো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিসিএসসহ কোনো পরীক্ষা বা নিয়োগে বৈষম্য করা হবে না।
গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার। তাই কারো রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, বিসিএস বা এ ধরনের পরীক্ষা কিংবা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সে পরিচয়ের কারণে বৈষম্য করা হবে না। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রাঙ্গণে অস্থিরতা সৃষ্টির অপপ্রয়াসও দেখা গেছে।’
৪৯তম বিসিএস বিশেষ পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ পরীক্ষায় সরকারি কর্ম কমিশনের চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৬৬৮ জন। সে হিসাবে প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম ছিল না। এ ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে প্রথম প্রজ্ঞাপনে প্রকৃতপক্ষে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৫৭ জন নয়, ৪৬ জন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিসিএস বা এ ধরনের পরীক্ষায় যাচাই বাধ্যতামূলক। একইভাবে মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দেয়াও বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে কিনা, এ নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছে।’ তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে একজনের নাম না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মাহুতির হুমকির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারেই হতে হবে এমন নয়। কয়েক ধাপে প্রজ্ঞাপন হতে পারে। ৪৯তম বিসিএসে চাকরিতে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে এখনো ১১ দিন সময় রয়েছে।’
মন্ত্রী আরো জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের একজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তিনি অবগত। ওই ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের একটি হল শাখার পদধারী নেতা ছিলেন বলে জানান তিনি। সম্ভবত তিনি ওই হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ওই ব্যক্তি চাকরির নিয়োগপত্র পাবেন না বলে ধরে নিয়েছেন। তবে তাকে পুলিশ যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে পুলিশ যাচাইয়ের সময় শতকরা একজন বা প্রতি হাজারে দু-একজন বাদ পড়তে পারেন। কারো বিরুদ্ধে এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয় থাকলে তা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বা আপিলে খালাস না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিধান রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










