সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নারীদের জন্য অনুকূল নয়। বিশেষ করে চলাচল, অভিগমন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নারীরা নানা সমস্যায় আছে। তবে ভোটের সময়টায় একটি ভিন্ন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণভাবে কোনো রাজনৈতিক দলই এমন কিছু করতে চায় না, যা তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিপক্ষে যেতে পারে। সে কারণে নির্বাচনকালে নারী প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। তবে আমাদের বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারীবান্ধব নয়। সংসদীয় আসনগুলোর আয়তন, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং স্থানীয় বাস্তবতা নারীদের জন্য প্রতিকূল। অনেক এলাকায় এখনো স্থানীয় সন্ত্রাসী বা মাফিয়া গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত হয়। এ সংস্কৃতি আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। সুতরাং বাংলাদেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কৃতিতে আহামরি পরিবর্তন হয়েছে এটি আমি মনে করি না। তবে প্রার্থীরা ভোটের আগে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছেন না।
যদি কোনো পুরুষের বিপরীতে নারী প্রার্থী থাকে, সেখানে নারী প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা শুধু নির্বাচনী সচেতনতা। অন্যদিকে নির্বাচনী সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক দল গঠন, পরিচালনার যে সংস্কৃতি সেটি ঠিক নারীবান্ধব না। তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে। দেশের ইতিহাসে হয়তো সবচেয়ে কম নারী প্রার্থী এবারের নির্বাচনে। জুলাইয়ের পর নারীদের যে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অংশগ্রহণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা কার্যত রাজনৈতিক দলগুলো উপেক্ষা করেছে।
আমার মতে, যেসব দল অতীতে তাদের ইশতাহারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি, তাদের আগে ব্যাখ্যা দেয়া উচিত—কেন পারেনি। নির্বাচনী ইশতাহারে প্রায়ই চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যেখানে বাস্তবতার ততটা দেখা হয় না। যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে সেটা দেখে মনে হচ্ছে এখানে বিরোধী দল থাকবে না এবং সবকিছু নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করা যাবে, যা বাস্তবসম্মত নয়। নারীদের বিষয়ে লক্ষ করলে দেখা যায়, প্রায় সব দলের ইশতাহারেই আশ্চর্যজনকভাবে মিল রয়েছে। এর মানে নারীদের সব সমস্যা একই। এগুলো কখনো সমাধান করা যায়নি। এগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও তার সংস্কৃতি ও ক্ষমতা পরিচালনার ধরন গভীরভাবে জড়িত।













