বাগেরহাটের শরণখোলায় রায়েন্দা-মাছুয়া ফেরিতে যানবাহন পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এছাড়া রয়েছে নির্ধারিত সময়ে ফেরি না ছাড়ার অভিযোগ। ফলে ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত আদায়ের সুযোগ নেই। অতিরিক্ত টাকা নিলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘ফেরিতে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোনো অভিযোগ আমার কাছে নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাত্রীদের সতর্ক হওয়ার জন্য দুই পাশের ঘাটে এবং ফেরিতে সরকার নির্ধারিত টোলের তালিকা ঝুলিয়ে দেয়া হবে।’

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার শরণখোলা ও পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর বলেশ্বর নদীতের ফেরি চলাচল শুরু হয়। পিরোজপুর সড়ক বিভাগের কাছ থেকে দরপত্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য ১১ লাখ টাকায় মেসার্স তালুকদার স্টোর নামে একটি প্রতিষ্ঠান ফেরিঘাটটি ইজারা নেয়।

কিন্তু সরজমিন দেখা গেছে, বেশির ভাগ দিনে নির্ধারিত সময়ে ফেরি চলাচল করে না। যাতায়াতকারীদের দাবি, ফেরিতে যানবাহনের নির্ধারিত টোলের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি আদায় করছে ইজারাদার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ গুণেরও বেশি টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া নির্ধারিত সময় ফেরি চলাচল করছে না। ফলে অনেক সময় সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছে। এতে একদিকে অর্থ ও অন্যদিকে সময় নষ্ট হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশার নির্ধারিত টোল ১৫ টাকা হলেও ১২০-১৩০ টাকা নেয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলের নির্ধারিত টোল ৫ টাকার স্থলে ২০-২৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। অন্যান্য যানবাহন থেকেও বাড়তি টোল আদায় করা হচ্ছে।

মঠবাড়িয়া এলাকার অটোরিকশাচালক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘প্রতি মাসে কয়েকবার মঠবাড়িয়া থেকে অটোরিকশায় আসতে হয় রায়েন্দায়। ফেরি চালুর প্রথম দিকে নিত ৫০ টাকা। কিছুদিন পর ৭০ টাকা, এখন নিচ্ছে ১২০ টাকা।’

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, ‘দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ফেরি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু ইজারাদার ইচ্ছামতো টোল আদায় করছেন।’ ফেরির সুবিধা মানুষকে দিতে হলে ইজারাদারের জুলুম বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

তবে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের কাছ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইজারা নেয়া ফারুক তালুকদারের প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আসলে ফেরিতে কোনো যানবাহনের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হয় না। তবে নষ্ট বা যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে ফেরি চলাচলের সময় হেরফের হয়।’