দুই বছরের বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি নষ্ট হয়ে আছে। এতে রোগীরা সরকারি খরচে ব্রেনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারছেন না।
প্রতিদিন জেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী সদর হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকমুখী হচ্ছেন। এতে তাদের চিকিৎসা ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সিটি স্ক্যান মেশিনটি নষ্ট হওয়ার পর একাধিকবার মেরামত বা নতুন মেশিন চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাছাড়া টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর আদৌ মেশিনটি চালু করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আনিসুর রহিম জানান, সরকারি হাসপাতালের অতীব জরুরি সিটি স্ক্যান মেশিন টানা দুই বছরের অধিক সময় নষ্ট হয়ে থাকবে এটি চরম অবহেলা ও দুঃখজনক। তিনি বলেন, সরকার সাধারণ রোগীদের কম খরচে সরকারিভাবে সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিনটি স্থাপন করেছে। কিন্তু রোগীরা বর্তমান এ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত। মেশিনটি পরিকল্পিতভাবে অকেজো করে রাখা হয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সিটি স্ক্যান মেশিনটি দ্রুত মেরামত বা নতুন মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনের সাবেক টেকনিশিয়ান আব্দুল হালিম জানান, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে জাপানি ফিলিপস্ কোম্পাানির মেশিনটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ২০১১ সালের দিকে। এরপর টেকনিশিয়ান হিসেবে সিটি স্ক্যান মেশিনটি একাধারে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিচালনা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বদলি হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে আসেন। তিনি বলেন, সদর হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি খুবই অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের। শুধু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এটি নষ্ট হয়ে আছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ রয়েছে। এরপর মেশিনটি জরুরি মেরামতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজারের কার্যালয়, ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেনটেইন্যান্স ওয়ার্কশপ মহাখালীতে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ বা অন্য সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে দুই বছরের অধিক সময় সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত তিনি।
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. হুসাইন সাফায়াত বণিক বার্তাকে জানান, সিটি স্ক্যান মেশিনটি মেরামতে দুই বছরে কয়েকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিন বছরের সম্ভাব্য মেরামত খরচের একটি প্রাক্কলন চাওয়া হয় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের কাছে। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি ৮০ লাখ টাকার সম্ভাব্য মেরামত খরচ বাবদ একটি প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।









