ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম। এ দলের মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে।’

গতকাল যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি ও বিভাগীয় টিম প্রধান প্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এর আয়োজন করে।

হতাশা নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী হয়ে দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে নেতাকর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান এবং শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে যে কারো শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হতাশ’ হওয়ার কিছু নেই। ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা কিছু দিয়ে ভরিয়ে দেবে।’ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে তিনি জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে এবং কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছর পর এসবের সুফল যখন মানুষের হাতে পৌঁছবে, তখন জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষের আত্মদান সার্থক হবে।

দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িঘর ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া প্রবাসে নানা নিপীড়ন সহ্য করে দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে একটি ‘বড় ও অস্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান রিজভী। বিগত প্রহসনের ‘আমি এবং ডামি’ নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এ বিজয়কে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।

বক্তব্যে ৪৫ বছর পর শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যাকারী মেজর মোজাফ্ফর হোসেনকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের কড়া সমালোচনা করেন রিজভী। প্রশ্ন তোলেন, ‘এ ৪৫ বছর তিনি কোথায় ছিলেন? আন্তর্জাতিক বা দেশের ভেতর কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে?’"

কাদের সিদ্দিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘সে সময় তিনি অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাকে অস্ত্র দেয়া হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, তা আজ আলোচনার সময় এসেছে।’

একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিফ, আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়া হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়েও জবাব চাওয়ার দাবি করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ নেতাকর্মীরা।