বগুড়াসহ উত্তরের বাতাসে এখনো হিম ধরেনি। সন্ধ্যা নামলে কুয়াশাও পড়ে না। ভোরের গায়ে শিশিরের তেমন কোনো চিহ্নও নেই। শীত আসতে আরো কিছুদিন বাকি। তবু বসে নেই বগুড়ার শীতকালীন সবজিচাষীরা। আগাম জাতের সবজি চাষে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন তারা। করোনা, বন্যা ও বৃষ্টি মাথায় নিয়েই চলছে আবাদ। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে চার লাখ টন সবজি উৎপাদন হবে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে সবজির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। যেসব সবজি ইমিউনিটি দ্রুত বাড়ায়, সেগুলোর ভোক্তা ও ক্রেতা বেড়েছে। এ কারণে কৃষকদের বেশি করে সবজি চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার ১২টি উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ হয়। জেলার সবজি ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় সাড়া দিতেই আগাম শীতকালীন শাকসবজি চাষে মাঠে নেমেছেন চাষীরা।

বগুড়ায় গ্রীষ্মকালীন সবজি উত্তোলন প্রায় শেষ। মাঠে মাঠে এখন শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। কিছু এলাকায় এরই মধ্যে আগাম জাতের সবজি চাষ করা হয়েছে। আবার কিছু এলাকায় এসব সবজি বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে।

এ বছর ১৮ হাজার ১৮৮ হেক্টর সবজি চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ফলন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৩ টন। গত বছর সবজির ফলন হয়েছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন। চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৯১২ হেক্টর।

গত বছর বন্যার প্রভাব ছিল। এ বছর বন্যা হলেও ৫ সেপ্টেম্বর পানি কমতে শুরু করে। এখনো শীত মৌসুম আসতে প্রায় এক মাস সময় পাবেন চাষীরা। যদিও সবজির জন্য জমি তৈরি করতে গিয়ে করোনার প্রভাব আর বৃষ্টিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বামুনিয়া, শাহনগর, কামারপাড়া, আমরুল অঞ্চল সবজি চাষের প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বেগুন চাষে দাড়িগাছা, মরিচ চাষে গোহাইল ও জামাদার এলাকা বিখ্যাত। বাজারে আগাম টমেটো আনতে দুরুলিয়া থেকে খোট্টাপাড়া এলাকার কৃষকরা মাচা তৈরি করে টমেটো চাষ করছেন। এ এলাকায় শিমও বড় পরিসরে চাষ হয়। শাজহানপুর উপজেলা ছাড়া জেলা সদর, শিবগঞ্জ, কাহালু, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, দুপচাঁচিয়া, শেরপুর, আদমদীঘি উপজেলায় উল্লেখ্যযোগ্য হারে শীতকালীন সবজি চাষ হয়।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, শীতকালীন সবজি চাষে উপজেলার কৃষকদের আগ্রহ বেশি। এ বছর ১ হাজার ২০০ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নানা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারো বাম্পার ফলনের আশা করছি।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, বগুড়ায় সবজি চাষ শুরু হয়েছে। গত বছর ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৩ টন।