মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে পদ্মা-মেঘনায়। নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় দিনে চাঁদপুরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মাছঘাটে নেমেছে নীরবতা। ফাঁকা হয়ে গেছে ঘাট ও নদী। এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ বিক্রির দায়ে তিনটি হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা হয়েছে প্রায় এক মণ ইলিশ। পৃথক অভিযানে ২৫ হাজার মিটার কারেন্ট জালও জব্দ করেছে উপজেলা টাস্কফোর্স।
গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত থেকে ৯ অক্টোবর ভোর ৩টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব জাল জব্দ করে হাইমচর উপজেলা টাস্কফোর্স। উপজেলার চরভৈরবী, কাটাখালী, তেলিরমোড়, চৌকিদারকান্দি, মাঝির বাজার, বার তহবিল ও ঈশানবালাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অন্যদিকে, শুক্রবার বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বিক্রির দায়ে তিনটি হোটেলকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে হিলশা কিচেনকে ৩০ হাজার, মেজবান হোটেলকে ২০ হাজার এবং দেলোয়ার হোটেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা। এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, অভিযানে জব্দ করা প্রায় এক মণ ইলিশ স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। আইন অমান্য করে ইলিশ বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত নদী এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও টাস্কফোর্সের দলগুলো। চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক এ তথ্য জানান।
নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন থেকেই চাঁদপুরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও মাছঘাটে মাছের বেচাকেনা বন্ধ রয়েছে। ফাঁকা ঘাটে এখন অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের আড়ত ও দোকান সংস্কার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সময় দিচ্ছেন। বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান বলেন, এখন তেমন কোনো কাজ নেই। আমরা আড়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করছি।










