কভিড-১৯ মহামারীতে রোহিঙ্গাদের বেশকিছু স্বনির্ভরতা কার্যক্রম কমে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্ধই হয়ে যায় এ ধরনের কার্যক্রম। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হওয়ায় খাদ্যনিরাপত্তায় আরো নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাস করা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা জনগোষ্ঠী। রোহিঙ্গা নিয়ে ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়ে আইএসসিজির যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) বাস্তবায়নের আপডেট (জুন-জুলাই ২০২১) শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিডকালে অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে রোহিঙ্গাদের মানিয়ে নেয়ার কৌশল অবলম্বন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য স্বনির্ভরতা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করছে জেআরপি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক টেকসই মার্কেট লিংকেজ তৈরি করতে পরিকল্পিত প্রচেষ্টাও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন মনে করছে জেআরপি।

আইএসসিজির তথ্য অনুযায়ী, কভিড-১৯ লকডাউন ও কভিড-১৯ মহামারীর সময় ক্যাম্পগুলোতে পুষ্টিসেবা প্রদানকারীদের ৫০ শতাংশ কম উপস্থিতি নিয়মিতভাবে মানসম্মত পুষ্টিসেবা প্রদানের সক্ষমতা সীমিত করেছে। এ সময় পুষ্টিসেবা প্রদানকারী রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা পুষ্টিবিষয়ক সাড়াদানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। যদিও মানসম্মত পুষ্টিসেবা দিতে পেশাদার পুষ্টিবিষয়ক কর্মীদের প্রবেশাধিকার প্রয়োজন বলে মনে করছে জেআরপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বছরই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহযোগিতার জন্য চাহিদার পুরো অর্থ আসেনি। আর ২০১৯ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা অর্থায়ন আগের বছরের তুলনায় অব্যাহতভাবে কমছে। চলতি বছরে প্রথম আট মাসে চাহিদার মাত্র ৩৪ শতাংশ অর্থ নিপীড়িত এ জনগোষ্ঠীর জন্য এসেছে।

আইএসসিজির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) বা যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠী ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছিল ৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে চলতি বছরের আট মাসে সহযোগিতা পাওয়া গেছে ৩২ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০১৭ সালের পর থেকে প্রথম আট মাসের তুলনামূলক হিসাবে সবচেয়ে কম।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত দাতারা রোহিঙ্গাদের জন্য ২৬২ কোটি ডলার অর্থ সহযোগিতা করেছে। আর গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য ১৮ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে জানান, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশ, যেখানে আমাদেরই সম্পদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিকূলতা রয়েছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের আলাদা করে দায়িত্ব নেয়া অবাস্তব। চলতি বছর যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা অর্থায়ন ৪০ শতাংশ কমিয়েছে। এ বাস্তবতা মাথায় রেখে রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ চাপ দিয়ে যাচ্ছে।