পুরনো এলসির বিপরীতে গম রফতানির আশ্বাস দিলেও ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা নতুন করে অনুমোদন না দেয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ছয়দিন ধরে গম আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে ব্যাংকের বাড়তি মাশুল গোনাসহ গমের মান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা। এদিকে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় পাঁচ হাজার গমবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় রফতানিকারকরা অনেক ট্রাক থেকে পণ্য নামিয়ে গুদামজাত করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।

ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অনিল ঠাকুর বলেন, ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) ১২ মের মধ্যে হওয়া গমের এলসির সুইফট ভারতে পৌঁছেছে অনুমোদন সাপেক্ষে সেগুলোর গম রফতানির নির্দেশনা দিয়েছিল। তারা যাদের আরসি ইস্যু করছে সেই আদেশের কপি হিলি কাস্টমসে আসার পর তাদের গম রফতানি হচ্ছে। এরই মধ্যে যারা অনুমোদন পেয়েছিল তাদের গম রফতানি করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে আর কোনো অনুমোদন পায়নি যে কারণে গম রফতানি বন্ধ রয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন অনুমোদন জটিলতার কারণে পাঁচ হাজার ট্রাকের ওপর গমবাহী ট্রাক ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানের সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এরই মধ্যে অনেক রফতানিকারক এসব ট্রাকের গম খালাস করে গুদামে নামিয়ে রাখছেন আবার কেউ খালাসের জন্য গুদাম খুঁজছেন এমন অবস্থা হয়ে রয়েছে। তবে অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব গম রফতানি করা হবে বলেও জানান তিনি। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, হঠাৎ করে ভারত সরকার গম রফতানি বন্ধ করে দিলেও গত ১২ মে পর্যন্ত হওয়া এলসির গম রফতানির আশ্বাস দিয়েছিল ভারত সরকার। ২৩ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১২ তারিখ পর্যন্ত হওয়া এলসির সুইফট ওই দিনের মধ্যেই যাওয়া এলসির গম রফতানির কথা জানিয়ে ছিল ভারত। কিন্তু এর পরও নানা টালবাহানা দেখিয়ে কিছুদিন গম রফতানি বন্ধ করে রাখে ভারত। পরে গত ২৯ মে ২ ট্রাক গম রফতানি করে আবারো নানা জটিলতা দেখিয়ে ভারতীয় কাস্টমস গম রফতানি বন্ধ রাখে। এর পর আবারো দুদিন বন্ধের পর গম রফতানি করে ভারত। ২ হাজার ৮০০ টনের মতো গম দিলেও ৫ মের পর থেকে আবারো কয়েকদিন ধরে গম রফতানি করছে না ভারত। এতে করে ভারতের অভ্যন্তরে অনেক গম আটকা পড়ে আছে আমদানিকারকদের, যা ভারতের বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। দীর্ঘদিন ট্রাকের মধ্যে ত্রিপল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এসব গম আটকা থাকায় গমের মান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি আমরা। সে সঙ্গে দীর্ঘদিনেও পণ্য না ঢোকার ফলে ব্যাংকের বাড়তি মাশুল গুনতে হচ্ছে। এতে করে লোকশানে পড়ার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আমদানিকারকরা। তবে তারা যে আশ্বাস দিয়েছিল ১২ তারিখের মধ্যে যেসব গমের এলসি হয়েছে তার সব গম যেন ভারত রফতানি করে আমরা সে দাবি জানাচ্ছি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৫ জুন ভারত থেকে চারটি ট্রাকে ১৪৮ টন গম আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আর কোনো গম আমদানি হয়নি।