রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট ও ফাইন্যান্স কমিটির সভা না করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরিপ্রাপ্ত আন্দোলনকারীরা উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বে) অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৬ মের নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা এখনো শেষ হয়নি। গত ৩১ মে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ আমরা কয়েকজন কথা বলছিলাম। যারা কথিত চাকরি পেয়েছে, তারা আমার বাসভবনের গেট উপড়ে ফেলে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অপ্রত্যাশিতভাবে অনুমতি ছাড়াই ৫০-৬০ জন ঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় আমার স্ত্রী ও সন্তান ভয়ে কাঁদতে থাকে। বর্তমানে বাসভবনে নিরাপদ মনে করছি না, কখন কী হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, আমার সহকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। এমনকি উপ-উপাচার্য নিজের নিরাপত্তা জোরদার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও সিন্ডিকেট যাতে না হয়, সে কারণে আন্দোলনকারীরা কোষাধ্যক্ষ ও উপ-উপাচার্যকে হুমকি দিচ্ছে। কোষাধ্যক্ষকে ১০-১৫ জন গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। তিনি এজন্য অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৩৮ জনকে দায়ী করেন।

তিনি আরো বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক হলগুলো মেরামতের জন্য একটা বড় অংকের টাকা দিয়েছিল। হলগুলো সংস্কার করার জন্য আমরা ফাইন্যান্স কমিটির সভা ১৯ জুন আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা ফাইন্যান্স কমিটির সভা পরিচালনা করতে পারিনি। কারণ সিনেট, প্রশাসন ভবন, উপাচার্য লাউঞ্জ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সামনে একাডেমিক কাউন্সিল করতে হবে, সেটিও কী হবে জানি না। আন্দোলনকারীদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক বলে দাবি রাখেন তিনি।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, আন্দোলনকারীদের আমরা আগেই জানিয়েছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া আমার দ্বারা কিছু করা সম্ভব নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যদি নির্দেশনা না আসে, তাহলে রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্যের কিছু করার ক্ষমতা নেই।