ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) থেকে নেয়া ঋণের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা মওকুফ চায় নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের ৫৭ প্রতিষ্ঠান। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিন বছরের কিস্তিতে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা মাঠ পর্যায় থেকে আদায় করতে না পারায় ইডকল থেকে নেয়া ঋণের বকেয়া অংশ মওকুফ চেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশেষ প্রণোদনার আওতায় বকেয়া মওকুফের আবেদন জানিয়ে ১২ মে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে ইউকল পার্টনার অর্গানাইজেশন (পিও) ফোরাম ট্রাস্ট। ট্রাস্টের সভাপতি মুনওয়ার মিসবাহ্ মঈন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সোলার হোম সিস্টেম কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সারা বিশ্বে ‘এক্সেস টু এনার্জি’ কর্মসূচির আওতায় স্থাপিত সোলার সিস্টেমের ৪০ শতাংশের বেশি আবাসগৃহ, শিক্ষা-সামাজিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। সারা দেশে ৫৩ লাখ সোলার হোম সিস্টেম, ২ লাখ ৫০ হাজার স্ট্রিট লাইট, ১ হাজার ৬৫০টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচপাম্প ও অন্যান্য সৌর প্রকল্পের বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিতে প্রতিটি উপজেলায় ইডকল পার্টনারদের অফিস ও জনবল রয়েছে। এসব কার্যক্রম চালাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো ইডকল থেকে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে সার্ভিস চার্জসহ ৪ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা এরই মধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে, যা মোট ঋণের ৯৫ শতাংশ। ঋণের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এখনো অপরিশোধিত। কিন্তু করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের থেকে অনাদায়কৃত অর্থ আদায় সম্ভব না হওয়ায় ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আটকে গেছে। এ অবস্থায় ইডকলের ঋণের বকেয়া ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সারা দেশে ৪৩ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা ১৯ ভাগ কম। সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ হয়েছিল ২০১৭ সালে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৬০ লাখ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুনের দিকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিল দেশের ৩৯ শতাংশ জনগণ। বর্তমানে তা বেড়ে ৯৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।










