এসএমই খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এ অর্থ পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় আইডিসিওএল, বিআইএফএফএল ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে।

চলতি মূলধন সহায়তার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে সরকার । ফলে, এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজারভিত্তিক সুদ অপেক্ষা অর্ধেকেরও কম হবে।

প্রস্তাবিত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা বেকারত্ব হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে। সুদের হার অর্ধেকের কম হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন এবং শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে দেশীয় কৃষি খাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, এসএমই শিল্প এবং রুগ্ন ও বন্ধ কলকারখানাসমূহের জন্য সহজ শর্তে এবং পুনর্ভরন পদ্ধতিতে ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৬০ হাজার কোটি টাকার ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল।

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।