সিলেট টেস্টে প্রথম দিনের শুরু শ্রীলংকার ব্যাটিং বিপর্যয় দিয়ে। বাংলাদেশের ভয়ংকর পেস তোপের মুখে ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। আর দিনের শেষটায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস। মাঝের সময়টুকুতে ব্যাট হাতে বীরত্ব দেখান শ্রীলংকার অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস। তাদের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়েই খাদের কিনারা থেকে উঠে এসে লংকানরা এখন সংহত অবস্থানে। শ্রীলংকাকে ২৮০ রানে অলআউট করার পর স্বাগতিকরা মাঠ ছেড়েছে ৩ উইকেটে ৩২ রান নিয়ে।

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রথম ও তৃতীয় সেশনে কর্তৃত্ব করেন বাংলাদেশের বোলাররা। আবার প্রথম সেশনের শেষার্ধ ও পুরো দ্বিতীয় সেশনে চালকের আসনে ছিল শ্রীলংকা। এর পরও অতিথি দলকে ২৮০ রানে অলআউট করে স্বাগতিক বোলাররা। স্বাগতিকদের হাসি অবশ্য শেষ পর্যন্ত ছিল না। গোধূলিবেলায় ৩১ রানের মধ্যে জাকির হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হককে হারিয়ে বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। দিনশেষে স্কোর ৩ উইকেটে ৩২ রান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো লংকানদের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ২৪৮ রানে পিছিয়ে শান্তরা। 

৫৭ রানে শ্রীলংকার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে দুর্দান্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। এরপর ২৪৫ বলে ২০২ রানের অবিশ্বাস্য এক পার্টনারশিপ গড়েন ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু। অবশেষে তৃতীয় সেশনে এই জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত পেসার নাহিদ রানা। ৫৭তম ওভারে রানার বলে মেন্ডিস মারতে গেলে আউটসাইড এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে যায় বল। ১২৭ বলে ১১টি চার ও তিন ছক্কায় ১০২ রান করেন মেন্ডিস। পরের ওভারে তার ১৪২ কিলোমিটার গতির বল পুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ অঞ্চলে মেহেদী হাসান মিরাজকে ক্যাচ দেন ধনাঞ্জয়া। ১৩১ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ১০২ রান করেন লংকান দলনায়ক।  

মেন্ডিসের বিদায়ের পরের ২১ রানের মধ্যে অলআউট সিংহলিজরা! রানার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন প্রবথ জয়সুরিয়া। এরপর তাইজুল ইসলামের বলে লিটনকে ক্যাচ দেন বিশ্ব ফার্নান্দো (২৭৮/৯)। আর শেষ ব্যাটসম্যান লাহিরু কুমারা হয়েছেন রানআউট (২৮০/১০)।   

বৃষ্টিভেজা সিলেটের মাঠে বাংলাদেশকে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ব্রেক থ্রু এনে দেন পেসার খালেদ আহমেদ। নিশান মাদুস্কা, দিমুথ করুণারত্নে ও কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। টাইগার পেসারদের তোপে দ্রুতই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলংকা। এরপর ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দুর দৃঢ়তায় ২২ ওভারে ৫ উইকেটে ৯২ রান তুলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় অতিথিরা।

তৃতীয় সেশনের শুরুতেও কর্তৃত্ব করেন তারা। ৫ উইকেটে ২১৭ রান তুলে চা-বিরতিতে যায় শ্রীলংকা। ধনাঞ্জয়া ৮৩ ও কামিন্দু ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ফেরার পর দুজন মারমুখী ব্যাটিংয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি তুলে নেন। অবশ্য তিন অংক ছোঁয়ার পর দুজনই রানার গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে যান সাজঘরে।  

এর আগে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নিশান মাদুস্কাকে (২) ফেরান খালেদ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামাল দিচ্ছিলেন দিমুথ করুণাত্নে (১৭) ও কুশল মেন্ডিস (১৬)। কুশল ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। খালেদের দারুণ এক বাউন্সার বুঝে উঠতে পারলেন না তিনি। গালি অঞ্চলে তার ক্যাচ লুফে নেন জাকির। একই ওভারে করুণারত্নেকেও সাজঘরে পাঠান এই পেসার। দলীয় ৪৭ রানের সময় রানআউট হয়ে যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। এরপর শরীফুলের শিকার হন দিনেশ চান্দিমাল। দিনের বাকি সময়টুকতে ছিল ধনাঞ্জয়া-কামিন্দু, নাহিদ রানা ও লংকান পেসারদের কর্তৃত্ব।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস: ২৮০ (ধনাঞ্জয়া ১০২, কামিন্দু ১০২; খালেদ ৩/৭২, রানা ৩/৮৭, তাইজুল ১/৩১, শরিফুল ১/৫৯)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩২/৩ (জয় ৯*, জাকির ৯; তাইজুল ০*; বিশ্ব ২/৯, কাসুন ১/২০)। —প্রথম দিন শেষে