সিলেট টেস্টে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হার না মানা সেঞ্চুরিতে ভর করে সংহত অবস্থান গড়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে তার ৯৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ২১২ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করে স্বাগতিকরা। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে স্বাগতিকদের লিড এখন ২০৫ রানের। এ পরিস্থিতিতে অতিথি দলকে বড় টার্গেট দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। 

সফরকারীরা গতকাল প্রথম ইনিংস শেষে ৭ রানের লিড পেলেও দিন শেষে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে টানা দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ১৩তম ওভারে আজাজ প্যাটেলের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন জাকির হাসান। টিম সাউদির করা পরের ওভারে রানআউটের শিকার হন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর শান্ত ও সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের ৯০ রানের জুটিতে স্বস্তি ফেরে স্বাগতিকদের ড্রেসিংরুমে। যদিও চা-বিরতি থেকে ফেরার পর দ্রুতই সাজঘরের পথ ধরেন মুমিনুল। সিঙ্গেল নিতে গিয়ে তিনি দৌড় দিলেও নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা শান্ত একচুলও নড়েননি। পরে ক্রিজে ফিরতে চেয়েও পারেননি। ৬৮ বলে ৪০ রানে শেষ হয় তার ইনিংসটি। ২৭ ওভারে বোর্ডে ৯০ রান করেন বর্তমান ও সাবেক অধিনায়ক।

এরপর আরেক সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে জুটি বাঁধেন শান্ত। এ দুজনও দিন শেষ হওয়ার আগে ২৭ ওভার ব্যাটিং করে বোর্ডে ৯৬ রান তুলেছেন। এ পথে সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। তিনি ১৯৩ বলে ১০ বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৪ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তার সঙ্গে অপরাজিত মুশফিকুর করেছেন ৭১ বলে ৪৩ রান। 

দলকে ভালো অবস্থান গড়ে দেয়ার দিন দারুণ কীর্তি গড়েন শান্ত। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট নেতৃত্বের অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার গৌরব এখন তারই। আগের সর্বোচ্চ ৯৬ রান করেছেন সাকিব আল হাসান (গ্রানাডা, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। সিলেট টেস্টের আগেই টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকে সেঞ্চুরি করেন ৩১ জন। গতকাল প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এ তালিকায় উঠল শান্তর নাম। আজাজ প্যাটেলের বলে সিঙ্গেল নিয়ে এ কীর্তি গড়েন তিনি।

ক্যারিয়ারের ২৪তম টেস্টে পঞ্চম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন শান্ত। এটা সর্বশেষ চার টেস্ট ইনিংসে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি! এর আগে ওয়ানডেতেও বাংলাদেশীদের মধ্যে নেতৃত্বের অভিষেকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচেও নেতৃত্বের অভিষেকে তিনি করেছিলেন ৭৬ রান। সেটাই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ।

স্বাগতিকদের ৩১০ রানের জবাবে কিউইরা প্রথম ইনিংসে ৩১৭ রানে অলআউট হয়। ৮ উইকেটে ২৬৬ রান তুলে বুধবার দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ে নিউজিল্যান্ড। কাইল জেমিসন ৭ ও টিম সাউদি ১ রানে অপরাজিত ছিলেন। গতকাল পার্টনারশিপটা পঞ্চাশ (৫২) পার করেই এ দুজন থেমেছেন। জেমিসন ২৩ রান করে মুমিনুলের শিকার হন। একই ওভারে কিউই দলনায়ক সাউদিকেও (৩৫) ফেরান মুমিনুল।

আগের দিন সকালে বাংলাদেশ বোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই শেষ উইকেট হারিয়ে ৩১০ রানে অলআউট হয়ে যায়। এরপর ১০০ রানের মধ্যে কিউইদের ৩ উকেটের পতন ঘটায় স্বাগতিক বোলাররা। যদিও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে টানেন কেন উইলিয়ামসন। তার লড়াকু সেঞ্চুরিতে (২০৫ বলে ১০৪) ভর করে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ে অতিথিরা। গতকাল টেল-এন্ডের চেষ্টায় তাদের সংগ্রহটা তিনশ ছাড়িয়ে যায়। তাইজুল ১০৯ রানে ৪টি ও মুমিনুল ৪ রানে ৩টি উইকেট নেন। 

নিউজিল্যান্ডকে কত রানের টার্গেট দিলে ম্যাচটি জিততে পারবে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নের জবাবে দিনের খেলা শেষে মুমিনুল বলেন, ‘এটা বলাটা খুব কঠিন। আমার কাছে এখনো মনে হচ্ছে উইকেট ভালো। কত রান নিরাপদ, এটা বলা অনেক কঠিন। চারশও হতে পারে, সাড়ে তিনশও হতে পারে। কালকের ওপর নির্ভর করে। কাল চতুর্থ দিন, অন্য রকম আচরণ করতে পারে। চারশ হলে ঠিক আছে।’

কিউই পেস বোলার কাইল জেমিসন এ নিয়ে বলছেন, ‘আমার কোনো ধারণাই নেই। কালকে সকালে দ্রুত গোটা দুয়েক উইকেট নিতে হবে আমাদের। তারপর দেখা যাক, রান তাড়ায় মোটামুটি মানের লক্ষ্য যেন ছেলেদের আমরা দিতে পারি।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৩১০ ও ২১২/৩ (শান্ত ১০৪*, মুশফিক ৪৩*, মুমিনুল ৪০; আজাজ ১/৯৪)। নিউজিল্যান্ড: ৩১৭ (উইলিয়ামসন ১০৪, ফিলিপস ৪২, মিচেল ৪১; তাইজুল ৪/১০৯, মুমিনুল ৩/৪)। —তৃতীয় দিন শেষে