বাজারদর ভালো পাওয়ায় সাতক্ষীরায় আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষ করছেন সাতক্ষীরার কৃষক। এছাড়া কাশ্মীরি আপেল, নাইন্টি, থাইটক, বাউকুল ও মিষ্টি বা বিলাতি কুল উৎপাদনও হচ্ছে এ জেলায়। চলতি মৌসুমে ৮৩০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার টন। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দেড় হাজার টন বেড়েছে।
সদর উপজেলার কুলচাষী মো. ইয়ারব হোসেন জানান, পাঁচ বছর আগে মাত্র তিন বিঘা জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের বাগান ছিল তার। পাঁচ বছরের ব্যবধানে জমির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৯ বিঘা। প্রতি মৌসুমে তার বাগানে তিন প্রজাতির ১২৫-১৩০ টন কুল উৎপাদন হচ্ছে। এসব কুল পার্শ্ববর্তী জেলা খুলনা এবং রাজধানী ও চট্টাগ্রামে সরবরাহ করা হয়।
আরেক চাষী ইয়ারব হোসেন বলেন, জমি লিজ, বাগান পরিচর্যা ও শ্রমিকের বেতন দিয়ে ২৯ বিঘা কুল বাগানে বছরে ৫২-৫৫ লাখ টাকা খরচ হয় তার। আর বাগানের উৎপাদিত কুল বিক্রি হয় ৭০-৭২ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতি মৌসুমে কুল চাষ করে ১৫-১৬ লাখ টাকা লাভ হয় তার।
কৃষি উদ্যোক্তা ইয়ারব হোসেনের মতে, জেলায় যেসব শিক্ষিত বেকার যুবক রয়েছেন, চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট না করে তাদের কৃষি প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপকূলীয় এ জেলায় বিভিন্ন জাতের কুল উৎপাদন হয়। এর মধ্যে রয়েছে মিষ্টি বিলাতি, আপেল, বলসুন্দরী, বাউকুল, কাশ্মীরি কুল, নারকেল কুল, থাইটক ও নাইন্টি। তবে বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আপেল ও বলসুন্দরী চাষ কৃষকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় উয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৩০ হেক্টর জমি থেকে কুল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার টন। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দেড় হাজার টন বেড়েছে। গত মৌসুমে জেলায় কুল উৎপাদন হয় সাড়ে নয় হাজার টন। সে হিসাবে দেড় হাজার টন বেড়েছে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। জেলায় মোট কুল বাগানের ৬৫-৭০ শতাংশই চাষ হয়েছে আপেল ও বলসুন্দরী।’









