আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন ৮৯১ জন। এর মধ্যে আবার ২৭ প্রার্থী শতকোটি টাকার মালিক। এছাড়া বিএনপির মোট প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশই ঋণগ্রস্ত।
প্রার্থীদের হলফনামা নিয়ে গতকাল নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।
ভোটে অংশ নেয়া ১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা সর্বোচ্চ। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ঋণগ্রস্তের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। তাদের প্রার্থীদের মধ্যে এ হার ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দেয়া হলফনামায় অস্বচ্ছতা রয়েছে জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হলফনামায় দেয়া তথ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে ২১ জনের। তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করার ঘোষণা দিলেও টিআইবির কাছে দুজনের তথ্য আছে, যারা এখনো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বহাল রেখেছেন। এছাড়া একজন প্রার্থীর ঘোষিত নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড বা ২১০ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ির সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে, যা তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি।’
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তৌহিদুল ইসলাম জানান, জাতীয় নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৮১। এতে স্বতন্ত্র ২৪৯ জন, অর্থাৎ মোট প্রার্থীর ১৩ শতাংশ। আর ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়বেন। সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা।
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া মোট প্রার্থীর ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ তাদের মূল পেশা হিসেবে ব্যবসাকে উল্লেখ করেছেন। এরপর আইনজীবী ও শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ ও ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। আর চাকরিজীবী রয়েছেন ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ প্রার্থী। কৃষিজীবী ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ শিক্ষকতায় যুক্ত রয়েছেন। এবার রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন কেবল ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। চিকিৎসক পেশায় রয়েছেন ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এবারের নির্বাচনে বড় আকারে প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ইসলামপন্থী দলগুলোর। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। এছাড়া প্রতিবারের মতো এবারো নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছে টিআইবি। প্রতিবেদনে তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ বছর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শতকোটিপতি প্রার্থী।
টিআইবির তথ্যে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে বর্তমানে মামলা আছে ৫৩০ প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন বা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এবার সব দলের প্রার্থীদের ঘোষিত মোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ কোটি টাকা। প্রত্যেক প্রার্থীর গড় ব্যয় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। ঘোষিত সবচেয়ে বেশি ব্যয় বিএনপির, ১১৯ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোট ব্যয় ৮০ কোটি টাকা।










