বগুড়ায় ফ্রি ফায়ার গেমসের আইডি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে খুন
হয়েছে স্কুলছাত্র সিফাত। এ ঘটনায় জড়িত বন্ধুকে মঙ্গলবার ঢাকার মনিপুরী পাড়া এলাকা
থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতারের পর জেলা পুলিশ বিভাগ থেকে সংবাদ সম্মেলন
করে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
জানা যায়, ২৬ ডিসেম্বর দুপুরে বগুড়া
শিবগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার একটি বাঁশবাগান থেকে শিশু সিফাতের গলাকাটা
মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য
উদ্ঘাটনে তত্পরতা শুরু করে। একপর্যায়ে ঢাকা থেকে নিহত সিফাতের বন্ধুকে গ্রেফতার
করে। নিহত সিফাত বগুড়া শহরের নূরানী মোড় এলাকার শাহ আলমের ছেলে। সে সপ্তম শ্রেণীর
শিক্ষার্থী ছিল।
গতকাল দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী সংবাদ সম্মেলন করে
জানান, নিহত সিফাতের থেকে তার এক
বন্ধু (শিশু হওয়ায় পুলিশ নাম
প্রকাশ করেনি) কৌশলে ফ্রি ফায়ার গেমের
আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয়। এরপর সিফাত আইডি ও পাসওয়ার্ড বারবার ফেরত চাইলে সেই
বন্ধু ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সিফাত ও তার কয়েকজন বন্ধুরা মিলে ওই বন্ধুকে
চাপ দিয়ে আইডি ও পাসওয়ার্ড ফেরত দিতে বাধ্য করে। এই ঘটনায় ওই বন্ধুর সঙ্গে সিফাতের
দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং সে প্রতিশোধমুখী হয়ে ওঠে। এর এক পর্যায়ে ২৫ ডিসেম্বর
বিকালে সিফাত তার বড় বোনের মোবাইল ফোন মেরামত করার জন্য নিজ বাসা থেকে বের হয়। পথে
তার সেই বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। সেই বন্ধু কৌশলে তার দাদার বাড়ি শিবগঞ্জের
নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছালে একটি বাঁশবাগানে
ফ্রি ফায়ার গেমস খেলার কথা বলে দুজন আড্ডা দেয়। পরে সিফাত বাড়ি যাওয়ার কথা বললে ওই
বন্ধুর আগে থেকেই কাছে থাকা চাপাতি দিয়ে পেছন থেকে সিফাতকে আঘাত করে। পরে সিফাত
মাটিতে পড়ে গেলে মুখ চেপে ধরে গলা কেটে হত্যা করে এবং বাম হাতের কব্জির রগ কেটে
দেয়। হত্যাকাণ্ড শেষে ওই বন্ধু ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঢাকায় আত্মগোপনের জন্য পালিয়ে
যায়।










