বনে বাঘ, জলে কুমির। নোনাজলে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। তার পরও জীবিকার সন্ধানে সুন্দরবনের নদ-নদীতে চিংড়ি রেণু আহরণ করছেন সাতক্ষীরা উপকূলের ১৫-২০ সহস্রাধিক নারী। কর্মসংস্থানের অভাবে এসব নারী ঝুঁকি নিয়ে জীবিকা অর্জন করছেন। কখনো বাঘ, আবার কখনো কুমিরের আক্রমণের শিকারও হতে হয় তাদের। তাছাড়া দীর্ঘ সময় লবণ পানিতে থাকায় এসব নারীর জরায়ুসহ শারীরিক অন্যান্য সমস্যাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রহিমা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় কোনো নারী যদি নদীর লবণ পানিতে ভিজে থাকেন, তবে তার জরায়ুতে ইনফেকশন হতে পারে। তাছাড়া অনিয়মিত মাসিক বা জরায়ুর ক্ষত বা শক্ত হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য চর্ম বা পানিবাহিত রোগও হতে পারে। মাঝেমধ্যে সুন্দরবন এলাকা থেকে এসব নারী চিকিৎসা নিতে এলে তাদের দীর্ঘক্ষণ নোনা পানিতে না থাকার জন্য
পরামর্শ দেয়া হয়।’
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন ও পাশের পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালীনি, মুন্সিগঞ্জ এবং রমজান ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার নারী প্রতিদিন সুন্দরবনের নদ-নদীতে চিংড়ি রেণু সংগ্রহ করেন। সুন্দরবনসংলগ্ন চকবারা গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা খাতুন ও খাদিজা বেগম জানান, খোলপেটুয়া নদীতে ৮-১০ বছর ধরে তারা চিংড়ি রেণু আহরণ করে আসছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জাল টেনে একেকজন ১৫০-২০০ টাকা উপার্জন করেন, যা তাদের সংসারে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এলাকায় চিংড়ি ঘের হওয়ার কারণে কৃষিকাজ তেমন নেই বললেই চলে। এ কারণে উপকূলীয় এলাকার পুরুষরা কাজ হারিয়ে দিন দিন বেকার হয়ে পড়ছে।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাকসুদুল আলম জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে চার হাজার হতদরিদ্র নারী সুন্দরবনের খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ ও কালিঞ্চি নদীতে চিংড়ি এবং পারশে মাছের রেণু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। রেণু পোনা আহরণ করতে
গিয়ে অনেকে বাঘ ও কুমিরের আক্রমণের শিকারও হন।









