সিঙ্গাপুরের পর বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের পরবর্তী গ্লোবাল ডেটা হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রধান গ্লোবাল ডেটা হাব। তবে দেশটিতে জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের পর্যাপ্ত পানি ও সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক ডেটা, কনটেন্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোর হাব হিসেবে দেশকে গড়ে তোলা সম্ভব।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি অভিজাত হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের সাবমেরিন ক্যাবল সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আগামী বছরগুলোতে ৫০ টেরাবাইট সক্ষমতা তৈরির পাশাপাশি অতিরিক্ত সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। আগামী চার বছরে বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় ১৫০ থেকে ২০০ শতাংশ অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে একাধিক পথ ও রিডানড্যান্সি নিশ্চিত করতে হবে।
টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ রাজস্বের নতুন সুযোগ এআই, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড ও টোকেনাইজেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, টেলিকম ও এআইয়ের সমন্বয় এবং টোকেনাইজেশন ভবিষ্যতে রাজস্ব বৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, স্পেকট্রাম শুধু রাজস্ব আয়ের বিষয় নয়। এটি দেশের ভবিষ্যৎ এবং আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। বিশ্বব্যাপী এআই মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হবে। তাই বাংলাদেশেরও এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।
উপদেষ্টা বলেন, স্পেকট্রামকে কৌশলগত সম্পদ এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই এটিকে স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব সর্বোচ্চকরণের হাতিয়ার হিসেবে দেখা উচিত নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, স্পেকট্রাম প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রে সরকার, ব্যবসা ও গ্রাহকের স্বার্থ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। টেলিকম খাতে এ তিন পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে সর্বোত্তম পরিস্থিতি তৈরি হয় না।
তিনি বলেন, স্পেকট্রামের দাম কমানোর সুফল গ্রাহকের কাছে কতটা পৌঁছাবে, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। টেলিকম সেবা অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সক্ষমতাকারী সেবা। তাই স্পেকট্রাম প্রাইসিংয়ে ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।
টিআরএনবির সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার, রবি আজিয়াটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জিয়াদ সাতারা, বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম এবং এফআইসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নূরুল কবীর।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এমডি মুনির হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন।










