দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল দুপুরে বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া ও সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিনের বিপুলসংখ্যক বিচারাধীন মামলাগুলো আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি ও দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি গুরুতর ও বৃহৎ দুর্নীতির ব্যাপারে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন। তিনি দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।’

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংকালে এ কথা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিগত আমলের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। নানা ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একত্র করে একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।’

এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ঢালাওভাবে মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়ার কারণে দেশে অদক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল দেশের উচ্চ শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তারা কর্মদক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রয়োজনে বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও গুণগত মানের ভিত্তিতে অনুমোদনে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এপিইউবির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি, গবেষণা, পেটেন্ট ও বাণিজ্যিকীকরণের পূর্ণ সুযোগ প্রদান, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিস (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ), বিদেশী ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে কর্মসংস্থানযোগ্য করা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) সহায়ক ও উন্নয়নমুখী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নে রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানান।

রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চ শিক্ষার প্রসার, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় প্রশংসা করে বলেন, ‘‌কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান অটুট রেখেছে। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।’

সাক্ষাৎকালে এপিইউবি চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ ও কেবিএম মঈন উদ্দিন চিশতি, ট্রেজারার কায়ুম রেজা চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল কাসেম হায়দার, কাজী জাহেদুল হাসান ও নওশাদ শামসুল আরেফিন এবং এপিইউবি সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।