চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৯ জন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে শিক্ষার্থীদের। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গতকাল সকাল ১০টায় পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আবেদনকারীর দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল গত ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলো। আর পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর গতকাল ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারে। এ কারণে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।
সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি ও ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট আবেদন জমা পড়ে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
এদিকে বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি ও ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আগের নিয়মে পুনর্নিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হতো। নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৯ বছরের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে কম পাসের হার। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর গতকাল সে ফল প্রকাশ করা হলো।










