মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ নেই। ফাঁকা ফেরিঘাটে শুনশান নীরবতা।  যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরিগুলোকে অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকতে হচ্ছে। ফেরি কর্তৃপক্ষ বহরের ২১ টি ফেরির মধ্যে অর্ধেক ফেরি বসিয়ে রেখেছে। বাকী ফেরি গুলো দিয়ে যানবাহন ভর্তি হলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর পর ছাড়া হচ্ছে।

এদিকে, লঞ্চ পারাপারের যাত্রীদেরও একই অবস্থা। যাত্রীরা খুব কম আসছে। অনেক বেশী যাত্রী হলে এক ঘণ্টা পরপর ছাড়া হচ্ছে লঞ্চ।  কর্তৃপক্ষ বলছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে এবার মানুষ ভোগান্তি ছাড়া ঈদযাত্রা করেছে। গতকাল রোববার বিকেল থেকেই মূলত যানবাহনের চাপ কমতে থাকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে । সন্ধ্যা নাগাদ যাত্রী ও যানবাহন শূন্য হয়ে যায় পাটুরিয়া ফেরিঘাট। আর তখন থেকেই ফেরিগুলো অলস বসে থাকে যানবাহনের অপেক্ষায়। মধ্যরাতে পারাপার করা হয় পণ্যবাহী সব ধরনের ট্রাক। সকাল থেকেই ট্রাক টার্মিনালসহ সব ধরনের যানবাহনের স্বল্পতা দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে ফেরি কর্তৃপক্ষ বহরের অর্ধেক ফেরি বন্ধ করে রাখে। বাকী ফেরি দিয়ে সামান্য যে পরিবহন আসছে সেগুলো পারাপার করছে। যাত্রী ও যানবাহন কম থাকায় ফেরিগুলো ছাড়তে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগছে। কখনো বা এক ঘণ্টা পরপর ফেরি ছাড়া হচ্ছে।

অল্পসংখ্যক যেসব যাত্রী ফেরি পারাপার হচ্ছেন তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। যানজট মুক্ত থাকায় বাস চালকরাও বেজায় খুশি। লঞ্চ পারের সামান্য যাত্রীরাও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ তাহের আরিজ নামে এক যাত্রী জানান, কয়েকদিন ধরে ঘাট এলাকায় যাত্রীদের অনেক চাপ ছিল। কিন্তু আজকের চিএ পুরো ভিন্ন। খুব শান্তিতে বাড়ি যাচ্ছি। ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছেন, যানবাহন না থাকায় ফেরিগুলো বসিয়ে রাখা হয়েছে। ঈদের আগের দিন এমন সুন্দর পরিবেশ পরিস্থিতি হবে তা ভাবতেই পারেন নি।

জেলা পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান বলছেন, এবার মানিকগঞ্জের ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কসহ ফেরি ঘাট এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। বাস, ছোট গাড়ি এবং ট্রাকের জন্য আলাদা আলাদা লেন, আলাদা ঘাট রাখা হয়। মহাসড়কের ফিডার রাস্তায় তিন চাকার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ বহু সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা হয়।

এছাড়া পাটুরিয়া ফেরিঘাটকে পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। সব মিলিয়ে সুশৃঙ্খলা বজায় রাখার কারণেই কোন যানজট হয়নি। নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয়েছে। আর ঈদের আগের দিন আজ ফেরিঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে।