জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভবিষ্যতে এনআইডি মাইগ্রেশন ও নবায়নের আবেদন অনলাইনে করতে হবে এবং এর জন্য বাধ্যতামূলক ফি দিতে হবে বলে কমিশনের সর্বশেষ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
মঙ্গলবার কমিশনের ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, ভোটার এলাকা স্থানান্তর বা মাইগ্রেশন এখন থেকে অনলাইনে আবেদন করে সম্পন্ন করা যাবে। সেক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
তিনি আরো জানান, এখন থেকে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ে দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষার সনদ (পিএসসি, জেসসি, এসএসসি) অনুযায়ী জন্মতারিখ সংশোধন করা যাবে।
এনআইডি নবায়ন প্রসঙ্গে সচিব বলেন, আইন অনুযায়ী ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফর্মে আবেদনকারীর পরিবারের তথ্য বা ফ্যামিলি ট্রি যুক্ত করতে হবে। একটি ন্যূনতম ফি নির্ধারিত থাকবে।
বর্তমানে ১৬ বছর বয়স থেকে এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত হয়। এ বয়সসীমা আরো কমানো যায় কি না, তা নিয়ে কমিশন পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমরা ১৬ বছর ও তদুর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডির জন্য বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। তার আগ পর্যন্ত এটা ডরম্যান্ট থাকে।
ইসি সচিব বলে, এ ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়- সেটা নিয়ে আরো কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটা এসএসসি নাকি ক্লাস এইট নাকি প্রাথমিক, যেটাই হোক না কেন, একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসব।
প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় একটি ধাপ কমানো হয়েছে জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, আগে ফর্ম জমা ও বায়োমেট্রিক দেয়ার পর তদন্ত শেষে আপলোড হতো। এখন বায়োমেট্রিক আপলোডের পর কমিশন তদন্তে যথার্থতা পেলে সরাসরি অনুমোদন দেবে।
তিনি জানান, এ পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে এনআইডি সংশোধন ও নবায়ন প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে। আবেদনকারীরা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং নির্ধারিত ফি দিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।










